অপু দাস, (রাজশাহী প্রতিনিধি):
দীর্ঘ ৩৬ বছর পর আজ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু), হল সংসদ ও সিনেট ছাত্র প্রতিনিধি নির্বাচন। ঐতিহাসিক এই ভোটকে কেন্দ্র করে উৎসবমুখর পরিবেশে সাজানো হয়েছে পুরো ক্যাম্পাসকে।
অবাধ, শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষভাবে নির্বাচন সম্পন্ন করতে নেওয়া হয়েছে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ক্যাম্পাসজুড়ে মোতায়েন রয়েছে দুই হাজারেরও বেশি পুলিশ সদস্য, ৬ প্লাটুন বিজিবি এবং ১২ প্লাটুন র্যাব।
এবারের নির্বাচনে ১৭টি কেন্দ্রে ভোট দেবেন ২৮ হাজার ৯০১ জন ভোটার। তাঁদের ভোটে নির্ধারিত হবে ৯১৮ প্রার্থীর ভাগ্য। ছাত্র সংসদের ২৩টি পদে প্রার্থী ২৪৭ জন, সিনেটের ৫টি পদে ৫৮ জন এবং ১৭টি হল সংসদের ২৫৫টি পদে প্রার্থী হয়েছেন ৫৯৭ জন।
১৯৬২ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে এখন পর্যন্ত রাকসু নির্বাচন হয়েছে ১৪ বার। সর্বশেষ ১৯৮৯ সালের নির্বাচনে ছাত্রদল প্যানেল থেকে রুহুল কবির রিজভী ভিপি এবং জাসদ ছাত্রলীগ প্যানেলের রুহুল কুদ্দুস বাবু জিএস নির্বাচিত হয়েছিলেন।
প্রতিটি ভোটারকে আজ ৪৩টি ভোট প্রদান করতে হবে—এর মধ্যে ২৩টি রাকসু, ৫টি সিনেট এবং ১৫টি হল সংসদের জন্য। নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে ১৭টি কেন্দ্রে স্থাপন করা হয়েছে ১০০টি সিসিটিভি ক্যামেরা।
বুধবার (১৫ অক্টোবর) দুপুরে সিনেট ভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচন কমিশন জানায়, সর্বোচ্চ ১৭ ঘণ্টার মধ্যেই ভোটের ফলাফল ঘোষণা করা হবে। কমিশন আরও সতর্ক করে জানিয়েছে, আচরণবিধি লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে নেওয়া হবে তাৎক্ষণিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা, আর কোনো ফৌজদারি অপরাধ ঘটলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে পুলিশ।
নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ১৫ অক্টোবর রাত ১২টা থেকে ১৭ অক্টোবর রাত ১২টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও আশপাশের ২০০ গজ এলাকায় সকল ধরনের মিছিল, মিটিং, সমাবেশ, মাইকিং, আতশবাজি ও অস্ত্র বহন নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি)।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণেও কঠোরতা আনা হয়েছে। মোট ছয়টি গেটের মধ্যে চারটি দিয়ে প্রবেশ এবং দুইটি দিয়ে বের হওয়া যাবে। শুধুমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ও নির্বাচন কমিশনের অনুমোদিত পরিচয়পত্রধারীরাই প্রবেশ করতে পারবেন ক্যাম্পাসে।





