আলু একটি পুষ্টিকর ও শক্তিদায়ক সবজি, যাতে প্রচুর পরিমাণে কার্বোহাইড্রেট, শর্করা, ভিটামিন সি, বি-কমপ্লেক্স, পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম ও ফাইবারের একটি চমৎকার উৎস, যা দ্রুত শক্তি জোগায়, হজমে সহায়তা করে, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে তোলে।
খোসাসহ সেদ্ধ কিংবা পোড়া আলু খাওয়া সবচেয়ে উপকারী। তবে স্টার্চের কারণে ডায়াবেটিস ও ওজন নিয়ন্ত্রণে পরিমিত খাওয়া প্রয়োজন। অতিরিক্ত ভাজা বা প্রক্রিয়াজাত আলু ওজন বৃদ্ধি, উচ্চ রক্তচাপ, রক্তে শর্করার মাত্রা বৃদ্ধি এবং ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তবে সবুজ কিংবা পচা আলু খাওয়া ক্ষতিকর।
আলুর প্রধান পুষ্টিগুণ ও উপকারিতা
১. আলু শক্তির উৎস: উচ্চ কার্বোহাইড্রেট ও ক্যালরি থাকায় দ্রুত শক্তি জোগায়।
২. হজম ক্ষমতা বৃদ্ধি: আলুতে রয়েছে ফাইবার, যা কোষ্ঠকাঠিন্য কমায় এবং পেটের সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে।
৩. হার্ট ও রক্তচাপ: আলুতে রয়েছে পটাশিয়াম, যা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রেখে হার্টের স্বাস্থ্য ভালো রাখে।
৪. ভিটামিন ও খনিজ: আলুতে রয়েছে ভিটামিন বি৬ ও ভিটামিন সি, যা বিপাক প্রক্রিয়ায় ভূমিকা রাখে এবং রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
আলুর অপকারিতা
১. ওজন বৃদ্ধি: অতিরিক্ত ভাজা (ফ্রেঞ্চ ফ্রাই, চিপস) খেলে ওজন বাড়ে।
২. ডায়াবেটিস: উচ্চ কার্বোহাইড্রেট রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে।
৩. বিষাক্ততা: সবুজ রঙ ধারণ করা বা গ্যাঁজ হওয়া আলুতে ‘সোলানাইন’ নামক বিষাক্ত পদার্থ থাকে, যা বমি, ডায়রিয়া কিংবা মাথাব্যথার কারণ হতে পারে।
৪. কিডনি সমস্যা: পটাশিয়াম বেশি থাকায় কিডনি রোগীর জন্য অতিরিক্ত আলু ক্ষতিকর হতে পারে।
অতএব আলু সেদ্ধ কিংবা বেক করে খাওয়া সবচেয়ে স্বাস্থ্যকর। প্রতিদিন পরিমিত পরিমাণে খাওয়া ভালো। কিন্তু অতিরিক্ত খেলে আপনার বিপদের ঝুঁকি হতে পারে। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে।





