বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

পাকা চুল আর বার্ধক্যের লক্ষণ নয়, ক্যানসার থেকে সুরক্ষার ইঙ্গিত হতে পারে

চুলের রঙ ধীরে ধীরে ফিকে হয়ে সাদা হওয়া মানেই আর কেবল বার্ধক্যের প্রাক্কালে পৌঁছানোর চিহ্ন নয়। জাপানের টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, পাকা চুলের উপস্থিতি সম্ভবত ক্যানসারের ঝুঁকি কমানোর সঙ্গে সম্পর্কিত।

বয়সের সঙ্গে শারীরিক পরিবর্তন হওয়া স্বাভাবিক। তবু অনেকেই সাদা চুলকে বয়সের অকাল চিহ্ন হিসেবে মনে করেন। কিন্তু গবেষকরা জানাচ্ছেন, চুলের রং উঠে যাওয়াটা মোটেই কেবল বার্ধক্যের লক্ষণ নয়। বরং এটি শরীরের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়ার অংশ, যা ক্যানসারের ঝুঁকি হ্রাস করতে পারে।

কীভাবে কাজ করে এই প্রক্রিয়াটি?

চুলের রঙ ধরে রাখে মেলানোসাইট নামের কোষ। এই কোষ চুলের গোড়ায় তৈরি হয় এবং মেলানিন নামের রঞ্জক উৎপাদন করে, যা চুলকে স্বাভাবিক রঙ দেয়। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যদি মেলানোসাইট কোষ অকেজো হয়ে যায়, তাহলে চুলের রঙ উঠে যায় এবং তা সাদা দেখায়।

গবেষণায় দেখা গেছে, যখন মেলানোসাইট কোষের বৃদ্ধি বন্ধ হয়ে যায়, তখন কোষের ডিএনএ ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়। এর ফলে কোষের বিভাজন থেমে যায় এবং ক্যানসারের দিকে বাঁক নেওয়া রোধ হয়। সহজ কথায়, পাকা চুলের পেছনে থাকা কোষের অকার্যকর হওয়াই শরীরকে ক্যানসারের ঝুঁকি থেকে অনেকটাই রক্ষা করতে পারে।

গবেষকরা আরও দেখেছেন, যদি এই অকেজো মেলানোসাইট কোষের উপর অতিবেগুনি রশ্মি বা রাসায়নিক প্রয়োগ করা হয়, তাহলে কোষ আবার সক্রিয় হয়ে যেতে পারে। সেই ক্ষেত্রে ক্ষতিগ্রস্ত ডিএনএ থাকায় কোষের বিভাজন বেড়ে ক্যানসারের ঝুঁকি আবারও তৈরি হতে পারে। অর্থাৎ, চুলের স্বাভাবিক সাদা হওয়া ঢাকার জন্য রং বা রাসায়নিক ব্যবহার করলে বিপদ তৈরি হতে পারে।

টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা বলছেন, সাদা চুলকে অযথা লুকানোর কোনো প্রয়োজন নেই। বরং প্রাকৃতিকভাবে পাকা চুল থাকাই নিরাপদ। এটি কেবল শারীরিক বার্ধক্যের চিহ্ন নয়, বরং স্বাস্থ্যকর প্রক্রিয়ারও ইঙ্গিত।

শেয়ার করুন