বিশেষ করে যারা ওজন কমাতে চাইছেন, তাদের প্রতিদিন অল্প পরিমাণে বাদাম খাওয়া সুপারিশ করা হয়। বাদাম শুধু সুস্বাদু নয়, বরং মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বৃদ্ধি, হৃদ্রোগের ঝুঁকি কমানো এবং ত্বক ও চুলের স্বাস্থ্য বজায় রাখতে সহায়তা করে। বিভিন্ন প্রকার বাদামের নিজস্ব পুষ্টিগুণ রয়েছে চিনেবাদাম, আখরোট, কাঠবাদাম বা পেস্তা প্রতিটির আলাদা উপকারিতা আছে। তবে হার্টের সুস্থতা বজায় রাখার জন্য কাঠবাদাম এবং পেস্তার মধ্যে কোনটি বেশি কার্যকর, তা অনেকেরই আগ্রহের বিষয়।
বাদামের মূল উপাদান হলো স্বাস্থ্যকর ফ্যাট বা ফ্যাটি অ্যাসিড। হার্টের কার্যকারিতা ভালো রাখতে, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং ত্বক-চুলের সজীবতা বজায় রাখতে এই ফ্যাটি অ্যাসিডের সরবরাহ প্রয়োজন। এক মুঠো বাদাম সাধারণত ২৮ গ্রাম ধরা হয়। সমপরিমাণ কাঠবাদামে প্রায় ১৬৪ ক্যালরি, ৬.১ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট, ১৪.১ গ্রাম ফ্যাট, ৩.৫ গ্রাম ফাইবার এবং ৬ গ্রাম প্রোটিন থাকে। একই পরিমাণ পেস্তা বাদামে প্রায় ১৫৯ ক্যালরি, ৭.৭ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট, ১২.৮ গ্রাম ফ্যাট, ৩ গ্রাম ফাইবার এবং ৫.৭ গ্রাম প্রোটিন থাকে। দেখা যায়, পুষ্টিগুণে দুই ধরনের বাদাম প্রায় কাছাকাছি হলেও পেস্তার ফ্যাট, ফাইবার এবং প্রোটিন কিছুটা কম। এছাড়া কাঠবাদামে রয়েছে ভিটামিন ই, ম্যাগনেশিয়াম ও ক্যালসিয়াম, আর পেস্তা বাদাম ভিটামিন বি, কপার ও ভিটামিন বি১, বি৬-এর ভালো উৎস।
হার্টের সুস্থতার জন্য রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত এবং পরিমিত পরিমাণে পেস্তা খেলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে। অন্যদিকে কাঠবাদামে থাকা ভিটামিন ই এবং অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট শরীরের অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমাতে সহায়তা করে, যা হার্টের জন্য উপকারী। ফলে হৃদ্স্বাস্থ্য রক্ষায় উভয়ই কার্যকর হলেও কার্যকারিতার ধরন ভিন্ন।
ডায়াবেটিস রোগীদের দিক থেকে দেখলে পেস্তা বাদাম বিশেষভাবে উপকারী। এতে ফাইবার যথেষ্ট এবং কার্বোহাইড্রেটও কাঠবাদামের তুলনায় কম। ফাইবার খাবারের শর্করাকে ধীরে রক্তে মিশতে সাহায্য করে, আর পেস্তায় থাকা ফ্ল্যাভোনয়েড শর্করার শোষণ কমিয়ে দেয়। বিশেষ করে টাইপ-২ ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য এটি খুবই উপযোগী। কাঠবাদামেও ফাইবার থাকে, তাই সুগারের রোগীরা সেটিও নিরাপদভাবে খেতে পারেন।
অতএব হার্টের স্বাস্থ্য বজায় রাখা এবং রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখা উভয় ক্ষেত্রে কাঠবাদাম ও পেস্তা বাদামই উপকারী। তবে শুধুমাত্র বাদামের উপর নির্ভর করা উচিত নয়। দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় প্রোটিন, শাকসব্জি, মাছ, মাংস, ভিটামিন ও খনিজ উপাদান পর্যাপ্ত পরিমাণে থাকা জরুরি। পাশাপাশি প্রতিদিন ৫-৬টি বাদাম খাওয়া সুপারিশ করা হয়। কাঠবাদাম ও পেস্তা মিলিয়ে খাওয়া গেলে পুষ্টিগুণের সুষম ভারসাম্য বজায় রাখা সম্ভব।





