বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

মেটা ও ইউটিউবের বিরুদ্ধে মামলা

মেটা ও ইউটিউবের বিরুদ্ধে মামলা

যুক্তরাষ্ট্রের লস এঞ্জেলেসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মামলা শুরু হয়েছে, যেখানে প্রশ্ন করা হচ্ছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কি কিশোরদের জন্য ক্ষতিকর? মামলায় আসামি হিসেবে আছে মেটা ও ইউটিউব। অভিযোগ উঠেছে, তাদের প্ল্যাটফর্ম কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি করছে।

মামলাটি দায়ের করেছেন ক্যালিফোর্নিয়ার এক কিশোরী, যিনি আদালতে কেজিএম নামে পরিচিত। মামলায় তার মা ক্যারেন গ্লেনও রয়েছেন। তারা দাবি করেছেন যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইচ্ছাকৃতভাবে আসক্তি তৈরি করে—নিরবিচ্ছিন্ন নোটিফিকেশন, ফিডের শেষ না থাকা, ভিডিও শেষ হওয়ার আগেই নতুন ভিডিও শুরু হওয়া ইত্যাদির মাধ্যমে ব্যবহারকারীকে দীর্ঘ সময় ধরে প্ল্যাটফর্মে রাখা হয়।

বাদীপক্ষের আইনজীবীরা বলেন, সমস্যার মূল কনটেন্ট নয়, বরং প্ল্যাটফর্মের নকশা। এতে কিশোররা বেশি ঝুঁকিতে পড়ে। মামলায় আরও বলা হয়েছে, এসব প্ল্যাটফর্মে সাইবার বুলিং বৃদ্ধি পায়, শরীর নিয়ে নেতিবাচক তুলনা হয় এবং অচেনা প্রাপ্তবয়স্কদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ তৈরি হয়।

 

প্রাথমিকভাবে মামলায় টিকটক ও স্ন্যাপও ছিল, তবে তারা বিচার শুরুর আগেই আলাদা সমঝোতায় গেছে। এখন কেবল মেটা ও ইউটিউব আদালতের মুখোমুখি।

প্রতিষ্ঠানগুলো অভিযোগ অস্বীকার করছে। মেটা জানিয়েছে, তারা কিশোরদের জন্য নিরাপদ আলাদা অ্যাকাউন্ট এবং অভিভাবকদের জন্য নজরদারি টুল চালু করেছে। ইউটিউব বলেছে, তারা সংবেদনশীল কনটেন্টে বিধিনিষেধ এবং কমবয়সী ব্যবহারকারীর শনাক্তকরণের জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করছে।

তবে সমালোচকরা মনে করছেন, এগুলো যথেষ্ট নয়, কারণ মূল প্ল্যাটফর্ম নকশা মূলত ব্যবহারকারীর মনোযোগ ধরে রাখার জন্য তৈরি। এই মামলার রায় প্রযুক্তি খাতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে—কোম্পানিগুলোকে ক্ষতিপূরণ দিতে হতে পারে এবং নকশা ও নীতিতে পরিবর্তন আসতে পারে।

শেয়ার করুন