বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

শীর্ষ কর্মকর্তাদের পদত্যাগে অ্যাপলে দেখা দিল অস্থিরতার ছায়া

অ্যাপলের সিইও টিম কুক নভেম্বরে ৬৫ বছর পূর্ণ করেছেন। সাধারণভাবে এটা উদযাপনের সময় হলেও, তাকে ঘিরে অবসরের গুঞ্জন চলছে। যদিও কুক নিজে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেননি, তবু শীর্ষ কর্মকর্তাদের পদত্যাগের খবর অ্যাপলের বাইরে আলোড়ন তৈরি করেছে।

অ্যাপলের বর্তমান অবস্থান নিয়ে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোম্পানি হয়তো এখন বিশ্বের সবচেয়ে দামি প্রতিষ্ঠান নয়, তবে বাজারমূল্য এখনও ৪ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি। এনভিডিয়ার তুলনায় অবস্থান সাময়িকভাবে কম হলেও ব্যবধান খুব বেশি নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এনভিডিয়ার শেয়ার মূল্য কমার ফলে যে কোনো সময় অ্যাপল আবার শীর্ষে ফিরে আসতে পারে।

কাউন্টারপয়েন্টের রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৫ সালের তৃতীয় প্রান্তিকে আইফোন আবারও অ্যান্ড্রয়েড ফোনগুলোকে পেছনে ফেলেছে। আইফোন ১৬-এর চারটি মডেল বিশ্বের শীর্ষ ১০ স্মার্টফোনের তালিকায় প্রথম চারটি স্থান দখল করেছে। এরপর রয়েছে গ্যালাক্সি এ১৬ ৫জি ও আরও চারটি গ্যালাক্সি মডেল, এবং আইফোন ১৭ প্রো ম্যাক্স।

অপরদিকে, সম্প্রতি একের পর এক অ্যাপলের শীর্ষ কর্মকর্তা পদত্যাগ করেছেন। প্রথমে ছিলেন মেশিন লার্নিং ও এআই বিভাগের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট জন গিয়ানান্দ্রেয়া। যদিও তিনি চলে গেলেও তার স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন অমর সুব্রামানিয়া, যিনি গুগলের জেমিনাই এবং মাইক্রোসফটের এআই টিমে কাজ করেছেন। ফলে কুকের প্রতি আস্থা বজায় আছে।

এরপর অ্যাপলের ডিজাইন প্রধান অ্যালান ডাই পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি তৈরি করেছিলেন ‘লিকুইড গ্লাস’, যা ব্যবহারকারীদের মধ্যে প্রশংসা ও বিতর্ক উভয়ই জুগিয়েছে। তার জায়গায় আসছেন স্টিফেন লেমে, যাকে নিয়ে অ্যাপলের কর্মীরা আশাবাদী।

চিপ বিভাগের প্রধান জনি স্রুজি বিষয়টি নিয়ে নিশ্চিত করেছেন, তাঁর কোনো পদত্যাগের পরিকল্পনা নেই। জেনারেল কাউন্সেল কেট অ্যাডামস এবং লিসা জ্যাকসনও অবসরে যেতে পারেন বলে খবর প্রকাশিত হয়েছে।

সবচেয়ে বেশি নজর কাড়ছে টিম কুক। ২০১১ সালে ৪৫০ বিলিয়ন ডলারের কোম্পানিকে নেতৃত্ব দিয়ে তিনি আজ ৪ ট্রিলিয়ন ডলারের প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেছেন। কুককে ঘিরে গুঞ্জন আছে যে, ২০২৬ সালের মধ্যে তিনি কোনো না কোনোভাবে পদত্যাগ করতে পারেন। আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা এখনো নেই। ম্যাশেবল অনুযায়ী, কুকের উত্তরসূরি সম্ভবত জন টারনাস হবেন, যিনি হার্ডওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং ২৪ বছর ধরে আইফোন ও আইপ্যাড প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত।

বাইরের দিকে কিছু অস্থিরতা দেখা দিলেও, বাস্তবে অ্যাপল এখনও স্থিতিশীল। আইফোন বিক্রি বৃদ্ধি পাচ্ছে, নতুন প্রযুক্তি উন্নয়নের পথে এগোচ্ছে, এবং নেতৃত্বের পরিবর্তনের মধ্যেও কোম্পানি এগিয়ে যাচ্ছে। পুরনো স্লোগান অনুযায়ী, ‘সবকিছু বুঝতে চাইলে, একটু ভিন্নভাবে ভাবতে হয়।’

শেয়ার করুন