হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারীদের প্রাইভেসি আরও শক্তিশালী করতে মেটা চালু করছে নতুন ফিচার ‘ইউজারনেম’। এতদিন হোয়াটসঅ্যাপে কাউকে মেসেজ করতে হলে ফোন নম্বর শেয়ার করা বাধ্যতামূলক ছিল। কিন্তু নতুন ফিচারে ব্যবহারকারীরা চাইলে ফোন নম্বর ও নাম গোপন রেখে চ্যাট করতে পারবেন।
ফোন নম্বর না দেখিয়েও ব্যবহারকারীরা নিরাপদে মেসেজ করতে পারবে। অপরিচিত কেউ শুধুমাত্র ইউজারনেম দেখে আপনাকে খুঁজে পাবে।
ফিচারটির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ‘পিন’ সুরক্ষা, যা চার অঙ্কের ব্যক্তিগত কোডের মাধ্যমে কাজ করবে। যদি ইউজার ইউজারনেম + পিন নিরাপত্তা চালু রাখেন, তাহলে শুধু ইউজারনেম জেনে কেউ মেসেজ পাঠাতে পারবে না; পিনও জানতে হবে। এতে অনাকাঙ্ক্ষিত মেসেজ, স্প্যাম বা অপরিচিত ব্যক্তির বিরক্তিকর ইনবক্স কমে যাবে। বিশেষ করে যারা পেশাগত কাজে হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করেন কিন্তু ব্যক্তিগত নম্বর প্রকাশ করতে চান তাদের জন্য এটি বড় সুবিধা।
নতুন ফিচারে থাকবে ‘রিজার্ভ ইউজারনেম’ অপশন। ব্যবহারকারীরা তাদের পছন্দের ইউজারনেম আগেই লক করে রাখতে পারবেন। ইউজারনেম হবে ৩–৩০ ক্যারেক্টারের মধ্যে, কিছু নির্দিষ্ট চিহ্ন ছাড়া ডোমেইন-স্টাইল বা অস্বাভাবিক ফরম্যাট ব্যবহার করা যাবে না। ইউজারনেম পরিবর্তন হলে হোয়াটসঅ্যাপ স্বয়ংক্রিয় নোটিফিকেশন পাঠাবে, যা গ্রুপেও দেখা যেতে পারে।
প্রাইভেসি বাড়াতে হোয়াটসঅ্যাপ আরও একটি সুবিধা যোগ করছে। বাইরের ওয়েবসাইট বা লিংক থেকে এলে সন্দেহজনক মেসেজ স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্লক হবে। এতে ফিশিং, স্প্যাম, স্ক্যামসহ তথ্য চুরির ঝুঁকি কমবে।
ব্যবহারকারীরা চাইলে তিনটি স্তরে প্রাইভেসি নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন: শুধু ইউজারনেম, ইউজারনেম+পিন অথবা ফোন নম্বর ভিত্তিক যোগাযোগ। আগের নম্বর সংরক্ষণকারীরা আগের মতো মেসেজ করতে পারবে। নতুন ফিচার মূলত নতুন যোগাযোগকারীদের জন্য পরিচয় লুকানোর সুযোগ দেবে।
বর্তমানে ফিচারটি হোয়াটসঅ্যাপের বিটা ভার্সনে দেখা যাচ্ছে এবং নিয়মিত আপডেটের মাধ্যমে আরও উন্নত করা হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, আগামী বছর এটি ব্যবহারকারীদের জন্য বড় ধরনের ‘প্রাইভেসি শিল্ড’ হিসেবে কাজ করবে।





