বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

চীনে বাধ্যতামূলক শিখতে হবে ‘ম্যান্ডারিন ভাষা’, সংখ্যালঘু অধিকার নিয়ে শঙ্কা

চীনে বাধ্যতামূলক শিখতে হবে ‘ম্যান্ডারিন ভাষা’, সংখ্যালঘু অধিকার নিয়ে শঙ্কা

চীনে বাধ্যতামূলক ম্যান্ডারিন ভাষা শেখার ইস্যুতে নতুন একটি আইন পাশ হয়েছে। দেশটির সরকার বলছে,  এই আইন ‘জাতিগত ঐক্য’ জোরদার করবে। তবে সমালোচকদের মতে, এটি সংখ্যালঘু জাতিগোষ্ঠীর ভাষা ও সংস্কৃতির ওপর চাপ সৃষ্টি করবে।

বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বেইজিংয়ে চীনের জাতীয় সংসদে ভোটের মাধ্যমে আইনটি অনুমোদন করা হয়। সংসদের বার্ষিক অধিবেশন শেষ হওয়ার সময় এই আইন পাশ হয়।

আইন অনুযায়ী, সব শিশুকে কিন্ডারগার্টেন শুরুর আগ থেকেই উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত বাধ্যতামূলকভাবে ম্যান্ডারিন ভাষায় পড়ানো হবে। এর আগে শিক্ষার্থীরা নিজেদের মাতৃভাষা—যেমন তিব্বতিয়ান পিপল, উইঘুর পিপল ও মঙ্গোলস ব্যবহার করে পাঠ্যক্রমের বড় অংশ পড়ার সুযোগ পেত।

চীনা সরকারের দাবি, নতুন প্রজন্মকে ম্যান্ডারিন শেখালে তাদের চাকরির সুযোগ বাড়বে এবং জাতীয় ঐক্য ও আধুনিকায়ন ত্বরান্বিত হবে। দেশটির সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠী হান চাইনিজ। যারা মোট জনসংখ্যার ৯০ শতাংশেরও বেশি।

সমালোচকদের মতে, এই আইন সংখ্যালঘুদের ভাষা ও সংস্কৃতি থেকে বিচ্ছিন্ন করার পথ তৈরি করবে। করনেল ইউনিভার্সিটির নৃবিজ্ঞানের সহযোগী অধ্যাপক মাগনুস ফিসকিসজো বলেন, এই আইন ১৯৪৯ সালের পর থেকে স্বীকৃত জাতিগত বৈচিত্র্য দমনের সাম্প্রতিক নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

আইনে আরও বলা হয়েছে, যদি কোনো অভিভাবক শিশুদের মধ্যে এমন ধারণা ছড়ায় যা ‘জাতিগত সম্প্রীতির জন্য ক্ষতিকর’, তবে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।

বেইজিংয়ের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ রয়েছে যে তারা তিব্বত, জিনজিয়াং ও ইনার মঙ্গোলিয়ার মতো সংখ্যালঘু অধ্যুষিত অঞ্চলে সাংস্কৃতিক অধিকার সীমিত করছে।

সমালোচকদের মতে, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ক্ষমতায় আসার পর থেকে সংখ্যালঘুদের সংস্কৃতিকে সংখ্যাগরিষ্ঠ হান সংস্কৃতির সঙ্গে একীভূত করার নীতি আরও জোরদার হয়েছে।

তিব্বতে ইতোমধ্যে অনেক সন্ন্যাসীকে গ্রেফতার এবং মঠগুলোর ওপর সরকারি নিয়ন্ত্রণ জোরদারের অভিযোগও উঠেছে। যাতে তারা দালাইল লামার প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করতে না পারে।

শেয়ার করুন