ফিলিস্তিনি রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও নাট্যকার আহমেদ নাজার আল জাজিরায় প্রকাশিত তার নিবন্ধে যুক্তি দিয়েছেন, ফিলিস্তিনি অধিকারের আন্দোলনকে কেবল রাজনৈতিক বামপন্থিদের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না।
তিনি বলেন, কয়েক দশক ধরে প্রগতিশীল এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলো ফিলিস্তিনকে ভাষা ও সংহতি দিলেও বর্তমান বৈশ্বিক নীতি পরিবর্তনের জন্য তা যথেষ্ট নয়। নাজারের মতে, যখন পশ্চিমা দেশগুলোর সামরিক সহায়তা, কূটনৈতিক অবস্থান এবং প্রতিবাদ সংক্রান্ত আইনগুলো নিরাপত্তা ও রক্ষণশীল শক্তির মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হয়, তখন ফিলিস্তিনি অ্যাডভোকেসিকেও সেই সব পরিসরে পৌঁছাতে হবে।
গবেষক নাজার উল্লেখ করেন, গাজা যুদ্ধের ফলে ফিলিস্তিন ইস্যুটি অভূতপূর্ব দৃশ্যমানতা পেলেও তা সরাসরি রাজনৈতিক প্রভাবে রূপান্তরিত হয়নি। বিশেষ করে জার্মানি, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যে ফিলিস্তিনপন্থি বিক্ষোভের ওপর ক্রমবর্ধমান বিধিনিষেধ এবং ‘চরমপন্থা’ বা ‘নিরাপত্তা’র নামে প্রতিবাদের কণ্ঠরোধ করার ঘটনাগুলো প্রমাণ করে যে কেবল নৈতিক স্পষ্টতা দিয়ে নীতিনির্ধারকদের টলানো যাচ্ছে না।
তিনি মনে করেন, ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার এবং আন্তর্জাতিক আইনের প্রয়োগ কোনো বামপন্থি ধারণা নয়, বরং এটি আইন, সার্বভৌমত্ব এবং রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার সীমানা নির্ধারণের মতো সর্বজনীন বিষয়।
নিবন্ধে বলা হয়েছে, ফিলিস্তিন ইস্যুকে কেবল ঔপনিবেশিকতা বিরোধী বা মানবাধিকারের ভাষায় বর্ণনা করলে রক্ষণশীল রাজনৈতিক মহলে এর আবেদন সীমিত হয়ে পড়ে। নাজার পরামর্শ দেন যে রক্ষণশীল আইনপ্রণেতাদের বোঝাতে এমন ভাষা ব্যবহার করতে হবে যা তাদের জাতীয় নিরাপত্তা ও কৌশলগত স্বার্থের সঙ্গে মিলে যায়।
ফিলিস্তিনে দখলদারিত্ব স্থায়ী হলে তা ইসরাইলের দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা বিঘ্নিত করবে অথবা আন্তর্জাতিক আইনের সিলেক্টিভ প্রয়োগ পশ্চিমা দেশগুলোর বৈশ্বিক বিশ্বাসযোগ্যতা কমিয়ে দেবে—এমন কৌশলগত যুক্তি উপস্থাপন করা প্রয়োজন।
আহমেদ নাজার দক্ষিণ আফ্রিকার এএনসি এবং আয়ারল্যান্ডের রিপাবলিকান নেতাদের উদাহরণ টেনে বলেন, সফল রাজনৈতিক পরিবর্তনের জন্য প্রাকৃতিক মিত্রদের বাইরে গিয়ে প্রতিপক্ষের সঙ্গেও সংলাপ করতে হয়।
তিনি সতর্ক করেন যে, কেবল নিজের বলয়ে উচ্চকণ্ঠ হওয়া দীর্ঘমেয়াদে আন্দোলনকে অপ্রাসঙ্গিক করে তুলতে পারে। তাই ফিলিস্তিনি অধিকারকে একটি রাজনৈতিক স্লোগান থেকে সরকারি নীতিতে রূপান্তর করতে হলে এমন সব জায়গায় কথা বলতে হবে যেখানে বর্তমানে এই আন্দোলন বাধার সম্মুখীন হচ্ছে।




