ইরানে হামলার জন্য ওঁৎ পেতে আছে মার্কিন সামরিক নৌবহর। সীমান্তের কাছেই যুক্তরাষ্ট্রের রণপ্রস্তুতিকে পাত্তা না দিয়েই ইসলামি বিপ্লব দিবস পালন করতে যাচ্ছেন ইরানিরা।
ইসলামি বিপ্লবের ৪৭তম বার্ষিকী উপলক্ষে দেশব্যাপী ১ হাজার ৪ শতাধিক শহরে শোভাযাত্রা বা গণমিছিল অনুষ্ঠিত হবে। অনুষ্ঠানগুলো প্রচার করতে দেশি ও বিদেশি ৭ হাজার ৭ শতাধিক সাংবাদিক উপস্থিত থাকবেন বলে জানিয়েছে বার্ষিকী উদযাপন কমিটির এক সদস্য।
ইসলামিক প্রোপাগেশন কোঅর্ডিনেশন কাউন্সিলের অনুষ্ঠান ও প্রাদেশিক বিষয়ক উপ-প্রধান কামাল খোদাদাদেহ মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সংবাদ সম্মেলনে জানান, প্রতি বছর সাধারণত ১১ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হওয়া এই দেশব্যাপী শোভাযাত্রায় সংবাদকর্মীরা উপস্থিত থাকবেন।
তিনি বলেন, ‘এ বছর দুই শতাধিক সাংবাদিক ও ক্যামেরাম্যানসহ আবাসিক বিদেশি সংবাদমাধ্যম এবং সব মিলিয়ে ৭ হাজার ৭শতাধিক দেশি ও আন্তর্জাতিক সংবাদকর্মী সারা দেশে ‘২২ বাহমান’-এর অনুষ্ঠানগুলো কভার করবেন।’
খোদাদাদেহ আরো বলেন, ‘তাছাড়া, আইআরআইবির সব চ্যানেল, যার মধ্যে ৩৫০টিরও বেশি নিউজ টিম আছে, সব আন্তর্জাতিক সম্প্রচার নেটওয়ার্ক এবং সব প্রাদেশিক নেটওয়ার্ক অনুষ্ঠানের সরাসরি খবর ও দৃশ্য সম্প্রচার করবে।’
তিনি উল্লেখ করেন, অস্ট্রিয়ার ওআরএফ, তুরস্কের এনটিভি ও আনাদোলু এজেন্সি, আমেরিকার সিবিএস নিউজ, লেবাননের আল মায়াদিন ও আল মানার, ইরাকের আল শামস ও আল ইরাকিয়া, কাতারভিত্তিক আল জাজিরা, রাশিয়ার রিয়া নভোস্তি ও আরটি নিউজ, জার্মানির এপিএ ও জেডডিএফ, স্পেনের ইএফই এবং চীনের সিসিটিভি, সিনহুয়াসহ বিভিন্ন দেশের অসংখ্য রেডিও ও টেলিভিশন নেটওয়ার্ক সংবাদ প্রচারের জন্য প্রস্তুত। তারা তেহরানের রাজপথ এবং আইকনিক আজাদি স্কয়ার থেকে সরাসরি শোভাযাত্রার খবর সংগ্রহ করবে।
সাম্প্রতিক সহিংস বিক্ষোভের তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমাদের ভুলে গেলে চলবে না যে, আমরা দেশের প্রায় ২ হাজার ৪০০ শহীদ এবং প্রায় ৩ হাজার হতাহতের জন্য শোক পালন করছি। শত্রু পক্ষ আমাদের মধ্যে বিভাজন তৈরি করে জনগণের সংহতি ভাঙতে চেয়েছিল, কারণ গত বছরের জুনে ১২ দিনের যুদ্ধের সময় দেশে অভূতপূর্ব ঐক্য ও পবিত্র সংহতি গড়ে উঠেছিল।’
তিনি আরো জানান, ইরানের অ্যারোস্পেস সেক্টর এবং কিছু সামরিক প্রতিষ্ঠান শোভাযাত্রার রুটে তাদের অর্জনগুলো প্রদর্শন করবে, যার মধ্যে কিছু প্রথমবারের মতো উন্মোচন করা হবে।
ইসলামি বিপ্লব দিবসের শোভাযাত্রাগুলো ১৯৭৯ সালের যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ণ সমর্থনপুষ্ট পাহলভি একনায়কতন্ত্রের পতনের স্মরণে আয়োজন করা হয়। জানুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে শাহ-এর প্রস্থানের কয়েক সপ্তাহ পর, ১৯৭৯ সালের ১ ফেব্রুয়ারি ইমাম খোমেনি নির্বাসন থেকে ফিরে আসেন এবং জনগণের কাছ থেকে বিশাল সংবর্ধনা পান।
অবশেষে ১৯৭৯ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি পাহলভি শাসনের পতন নিশ্চিত হয়, যখন সেনাবাহিনী শাহের প্রতি আনুগত্য ত্যাগ করে এবং বিপ্লবীদের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করে।
সূত্র: প্রেস টিভি।





