রবিবার, ১ মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

গাজায় সহায়তা প্রবেশে বাধা, প্রতিবেশী দেশে আটকে ইউএনআরডব্লিউএর ত্রাণ

মিশরের রাফাহ সীমান্তে মানবিক ত্রাণ ও জ্বালানি বহনকারী ট্রাক। ছবি: রয়টার্স

ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের জন্য জাতিসংঘের সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএ জানিয়েছে, ২০২৫ সালের মার্চ মাস থেকে গাজা উপত্যকায় তাদের মানবিক সহায়তা প্রবেশে বাধা দিচ্ছে ইসরাইল। এর ফলে খাদ্য, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও জরুরি সহায়তার বড় অংশ এখনো প্রতিবেশী দেশগুলোর গুদামেই পড়ে রয়েছে। এ তথ্য জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম  টিআরটি ওয়ার্ল্ডে

বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ইউএনআরডব্লিউএ জানায়, গাজায় পাঠানোর জন্য প্রস্তুত খাদ্যদ্রব্য, স্বাস্থ্যসামগ্রী, ওষুধ ও অস্থায়ী আশ্রয় উপকরণ মিশর ও জর্ডানে সংরক্ষিত রয়েছে। কয়েক মাস ধরে এসব ত্রাণসামগ্রী সীমান্ত অতিক্রমের অনুমতি পায়নি।

সংস্থাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক বার্তায় জানায়, তাদের জীবনরক্ষাকারী সহায়তা সম্পূর্ণ প্রস্তুত থাকা সত্ত্বেও গাজায় প্রবেশের অনুমোদন দেওয়া হচ্ছে না। তারা সতর্ক করে বলেছে, মানবিক পরিস্থিতির অবনতির মধ্যে সময় নষ্ট করার কোনো সুযোগ নেই।

ইউএনআরডব্লিউএর অভিযোগ, ২০২৪ সালের শেষ দিকে অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমে সংস্থাটির কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার পর থেকে ইসরাইল ধারাবাহিকভাবে নানা বিধিনিষেধ আরোপ করে আসছে। এতে করে শরণার্থীদের জন্য পরিচালিত মানবিক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

এদিকে ইসরাইলের জ্বালানি মন্ত্রী এলি কোহেন জানিয়েছেন, পূর্ব জেরুজালেমে অবস্থিত ইউএনআরডব্লিউএর সদর দপ্তরে পানি ও বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তিনি দাবি করেন, এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের তদারকি তিনি নিজেই করেছেন।

বুধবার সন্ধ্যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে কোহেন বলেন, তিনি সরাসরি নির্দেশ দিয়ে সংস্থাটির পানি সরবরাহ বন্ধ করেছেন। এর আগেও একটি ইসরাইলি রেডিওকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, ইউএনআরডব্লিউএর স্থাপনাগুলোতে পানি ও বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করার বিষয়টি নিজ চোখে দেখতেই তিনি পূর্ব জেরুজালেমে যান।

ইসরাইলি মন্ত্রী আরও বলেন, ইসরাইলের ভূখণ্ডে ইউএনআরডব্লিউএর কোনো কার্যক্রমের স্থান নেই—এটাই সরকারের অবস্থান।

শেয়ার করুন