বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

সমন্বিত হামলার পর ১৪৫ ‘জঙ্গিকে’ হত্যা পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনীর

সমন্বিত হামলার পর ১৪৫ ‘জঙ্গিকে’ হত্যা পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনীর
পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী রবিবার জানিয়েছেন, প্রদেশজুড়ে সমন্বিত বন্দুক ও বোমা হামলার ধারাবাহিকতায় শুরু হওয়া ৪০ ঘণ্টার সংঘর্ষে নিরাপত্তা বাহিনী ১৪৫ জন ‘জঙ্গিকে’ হত্যা করেছে। এসব হামলায় প্রায় ৫০ জন নিহত হয়েছে।

ইরান ও আফগানিস্তান-সীমান্তবর্তী সম্পদসমৃদ্ধ এই দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশে সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে অন্যতম ভয়াবহ সহিংসতার মুখে পড়েছে কর্তৃপক্ষ। বিদ্রোহীরা নিরাপত্তা বাহিনী, বেসামরিক মানুষ ও অবকাঠামোর ওপর হামলা জোরদার করেছে।

 

পাকিস্তানের উপস্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তালাল চৌধুরী জানান, শনিবার হামলাকারীরা সাধারণ বেসামরিক মানুষের ছদ্মবেশে হাসপাতাল, স্কুল, ব্যাংক ও বাজারে ঢুকে নির্বিচারে গুলি চালায়।

তিনি বলেন, ‘প্রতিটি ক্ষেত্রেই হামলাকারীরা বেসামরিক পোশাকে এসে দোকানে কাজ করা সাধারণ মানুষকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘জঙ্গিরা বেসামরিক মানুষকে মানবঢাল হিসেবে ব্যবহার করেছে।’

নিষিদ্ধ বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন বেলুচ লিবারেশন আর্মি (বিএলএ) হামলার দায় স্বীকার করেছে।

সংগঠনটি জানায়, তারা ‘হেরোফ’ বা ‘ব্ল্যাক স্টর্ম’ নামের একটি সমন্বিত অভিযান চালিয়েছে, যার লক্ষ্য ছিল প্রদেশজুড়ে নিরাপত্তা বাহিনী। 

প্রাদেশিক রাজধানী কোয়েটায় হামলার পর চিত্র স্পষ্ট—একটি পুলিশ স্টেশনে পুড়ে যাওয়া যানবাহন, গুলিবিদ্ধ দরজা এবং হলুদ টেপ দিয়ে ঘেরা রাস্তা। হামলার পর নিরাপত্তা বাহিনী টহল জোরদার করে এবং চলাচলে কড়াকড়ি আরোপ করে।

বেলুচিস্তানের মুখ্যমন্ত্রী সরফরাজ বুগতি জানান, এসব হামলায় ১৭ জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য এবং ৩১ জন বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন।

পাকিস্তান সেনাবাহিনী জানায়, শনিবার ৯২ জন এবং শুক্রবার ৪১ জন ‘জঙ্গি’ নিহত হয়েছে। 

বুগতি বলেন, ‘আমাদের কাছে গোয়েন্দা তথ্য ছিল যে এ ধরনের একটি অভিযান পরিকল্পিত হচ্ছে। সে কারণেই এক দিন আগে থেকেই প্রাথমিক অভিযান শুরু করা হয়েছিল।’

তিনি জানান, স্বল্প সময়ের মধ্যে এত বেশি ‘জঙ্গি’ নিহত হওয়ার ঘটনা সাম্প্রতিক সময়ে বিরল, যদিও তিনি তুলনামূলক কোনো পরিসংখ্যান দেননি।

কর্মকর্তারা জানান, কোয়েটা, গ্বাদর, মাস্তুং ও নুশকি জেলায় প্রায় একই সময়ে হামলা চালানো হয়।

সশস্ত্র হামলাকারীরা ফ্রন্টিয়ার কর্পসের সদর দপ্তরসহ বিভিন্ন নিরাপত্তা স্থাপনায় গুলি চালায়, আত্মঘাতী হামলার চেষ্টা করে এবং শহরাঞ্চলে সাময়িকভাবে সড়ক অবরোধ করে। এর জেরে সেনাবাহিনী, পুলিশ ও সন্ত্রাসবিরোধী ইউনিট যৌথভাবে ব্যাপক পাল্টা অভিযান শুরু করে। 

একটি ক্ষতিগ্রস্ত দোকানের বাইরে দাঁড়িয়ে বেসরকারি নিরাপত্তারক্ষী জামিল আহমেদ মাশওয়ানি বলেন, দুপুরের পরপরই হামলাকারীরা আঘাত হানে। তার ভাষায়, ‘ওরা আমার মুখ ও মাথায় আঘাত করেছে।’

শেয়ার করুন