শনিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ব্রিকস নৌমহড়ায় ইরান, ট্রাম্পের রোষানলে দক্ষিণ আফ্রিকা

ব্রিকস নৌমহড়ায় ইরান, ট্রাম্পের রোষানলে দক্ষিণ আফ্রিকা

দক্ষিণ আফ্রিকায় গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত ব্রিকস জোটের যৌথ নৌমহড়ায় ইরানের অংশগ্রহণকে কেন্দ্র করে দেশটির অভ্যন্তরে চরম অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।

প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসার স্পষ্ট নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও ইরানকে এই মহড়ায় অংশ নিতে দেওয়ায় দক্ষিণ আফ্রিকার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এখন তীব্র সমালোচনার মুখে। এই ঘটনায় ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনও দক্ষিণ আফ্রিকার ওপর ভীষণ ক্ষুব্ধ হয়ে কড়া কূটনৈতিক বার্তা পাঠিয়েছে।

ব্রিকস প্লাস দেশগুলোর (ব্রাজিল, চীন, রাশিয়া, ভারত, দক্ষিণ আফ্রিকা, ইরান, সংযুক্ত আরব আমিরাত ইত্যাদি) অংশগ্রহণে ‘উইল ফর পিস ২০২৬’ নামক এই মহড়াটি ৯ থেকে ১৬ জানুয়ারি দক্ষিণ আফ্রিকার সাইমন’স টাউন নৌঘাঁটির কাছে অনুষ্ঠিত হয়।

মহড়াটি চীনের নেতৃত্বে পরিচালিত হলেও এতে ইরানের যুদ্ধজাহাজের উপস্থিতি নিয়ে বিতর্কের সূত্রপাত। ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভে হাজারো মানুষের মৃত্যুর ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তেহরানের উত্তেজনা তুঙ্গে। এমন সময়ে ইরানকে আতিথেয়তা দেওয়ায় মার্কিন দূতাবাস দক্ষিণ আফ্রিকাকে একহাত নিয়েছে।

তারা বলেছে, নিজের দেশের নাগরিকদের ওপর নির্যাতন চালানো একটি শক্তিকে স্বাগত জানিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকে ‘ন্যায়বিচারের’ জ্ঞান দিতে পারে না।

সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো দক্ষিণ আফ্রিকার সংবাদমাধ্যম ‘ডেইলি ম্যাভেরিক’-এর প্রতিবেদন— প্রেসিডেন্ট রামাফোসা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক নষ্ট হওয়ার ভয়ে ৯ জানুয়ারিই ইরানকে মহড়া থেকে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বা সামরিক বাহিনী সেই নির্দেশ অমান্য করে বা এড়িয়ে গিয়ে ইরানকে মহড়ায় অংশ নিতে দেয় বলে অভিযোগ উঠেছে। তিনটি ইরানি যুদ্ধজাহাজকে মহড়া চলাকালীন দক্ষিণ আফ্রিকার জলসীমায় অবস্থান করতে দেখা গেছে।

এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রতিরক্ষা মন্ত্রী অ্যাঞ্জি মোৎশেগা গত শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত বোর্ড গঠন করেছেন। এই তদন্তের মূল উদ্দেশ্য হলো—প্রেসিডেন্টের নির্দেশ কেন এবং কীভাবে অমান্য করা হলো তা খুঁজে বের করা।

আজ শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) সেই তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা রয়েছে। ভারত এই মহড়া থেকে নিজেকে সরিয়ে রাখলেও চীন, রাশিয়া এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত এতে সক্রিয়ভাবে অংশ নেয়।

ট্রাম্প প্রশাসন ইতিমধ্যে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে নানা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। দক্ষিণ আফ্রিকার রপ্তানি পণ্যের ওপর প্রায় ৪০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করা হয়েছে এবং দেশটিতে সাহায্য প্রদান স্থগিত করা হয়েছে।

এছাড়া দক্ষিণ আফ্রিকার শ্বেতাঙ্গ কৃষকদের ওপর কথিত নিপীড়ন নিয়ে ট্রাম্পের মন্তব্য এবং দক্ষিণ আফ্রিকা কর্তৃক ইসরাইলের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা করার বিষয়টিও দুই দেশের সম্পর্কের টানাপোড়েন আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

সূত্র: আল জাজিরা

শেয়ার করুন