রবিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ট্রাম্পকে ইরানের শীর্ষ নেতাদের ‘টার্গেট’ করার আহ্বান মার্কিন সিনেটরের

যুক্তরাষ্ট্রের রিপাবলিকান দলের প্রভাবশালী সিনেটর এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগী লিন্ডসে গ্রাহাম ইরানের শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে আরও কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন। তার দাবি, ইরানের ক্ষমতাসীন নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে শক্ত অবস্থান নিলে দেশটিতে চলমান গণআন্দোলন আরও জোরদার হবে এবং এর মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।

ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে গ্রাহাম বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত ইরানের বিক্ষোভকারীদের মনোবল বাড়ানো এবং ক্ষমতাসীন গোষ্ঠীর মধ্যে ভীতি সৃষ্টি করা। তিনি বলেন, যারা সাধারণ মানুষের ওপর দমন-পীড়ন চালাচ্ছে, তাদের নেতৃত্বকে কঠোরভাবে মোকাবিলা করা জরুরি। তার মতে, এ পরিস্থিতির অবসান ঘটানো এখন সময়ের দাবি।

গ্রাহামের ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানে চলমান সংকটের একটি কার্যকর সমাধান মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক রাজনৈতিক চিত্র পাল্টে দিতে পারে। তিনি বলেন, পরিস্থিতি অনুকূলে এলে রাষ্ট্রীয় মদদে পরিচালিত সহিংস কর্মকাণ্ড বন্ধ হতে পারে এবং হিজবুল্লাহ ও হামাসের মতো সংগঠনগুলোর প্রভাব হ্রাস পাবে। পাশাপাশি ইসরাইল ও সৌদি আরবের মধ্যে শান্তিপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে ওঠার পথও সুগম হতে পারে। তার মতে, এতে পুরো অঞ্চলে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে পারে।

এর আগে শনিবার (১০ জানুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে লিন্ডসে গ্রাহাম ইরানে চলমান বিক্ষোভের প্রসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনের ইঙ্গিত দেন। তিনি ইরানের জনগণের উদ্দেশে বলেন, দীর্ঘদিনের দুঃসহ পরিস্থিতির অবসান ঘনিয়ে আসছে। নিজেদের অধিকার আদায়ে যে সাহস ও দৃঢ়তা তারা দেখাচ্ছে, তা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পসহ স্বাধীনতাকামী মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

গ্রাহাম আরও ব্যাখ্যা করেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যখন ‘ইরানকে আবার মহান করে তোলার’ কথা বলেন, তখন এর অর্থ হলো—ইরানের আন্দোলনকারীদের অবশ্যই বর্তমান নেতৃত্বের বিরুদ্ধে বিজয়ী হতে হবে। তার মতে, আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও তার সহযোগীরা ক্ষমতায় থাকলে ইরানের প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব নয় এই বিষয়টি ট্রাম্প স্পষ্টভাবে উপলব্ধি করেন।

ইরানের আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে সমর্থন জানিয়ে গ্রাহাম আরও লেখেন, যারা ত্যাগ স্বীকার করে আন্দোলনে অংশ নিচ্ছেন, তাদের জন্য তিনি মঙ্গল কামনা করেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সহায়তা আসছে এমন ইঙ্গিত দেন।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ডিসেম্বর দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে ইরানে যে বিক্ষোভ শুরু হয়, তা অল্প সময়ের মধ্যেই সরকারবিরোধী ব্যাপক আন্দোলনে রূপ নেয়। ইরানের বর্তমান সরকারের অভিযোগ, এই আন্দোলনের পেছনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ভূমিকা রাখছে।

এদিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে গত বৃহস্পতিবার থেকে ইরান কর্তৃপক্ষ দেশজুড়ে প্রায় সব ধরনের ইন্টারনেট সেবা সীমিত বা বন্ধ করে দিয়েছে। এর ফলে দেশটির অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

শেয়ার করুন