ইরানে চলমান বিক্ষোভ দমনে কঠোর অবস্থান নিয়েছে দেশের ইসলামি বিপ্লবী গার্ডস বাহিনী (আইআরজিসি)। তারা জানিয়েছে, দেশের নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতা “রেড লাইন” হিসেবে বিবেচিত এবং তা অতিক্রম করা যাবে না। একই সঙ্গে ইরানের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, জাতীয় স্বার্থ, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও জনসম্পত্তি রক্ষায় তারা মাঠে থাকবে।
প্রথমে মূল্যস্ফীতি ও অর্থনৈতিক সংকটের প্রতিবাদ হিসেবে শুরু হওয়া বিক্ষোভ দুই সপ্তাহ ধরে ইরানজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে এবং ধীরে ধীরে সরকারের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক আন্দোলনে রূপ নিয়েছে। বিক্ষোভকারীরা দেশটির ধর্মীয় শাসনের অবসান দাবি করছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, এই আন্দোলনে এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ৬৫ জন নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে ৫০ জন বিক্ষোভকারী ও ১৫ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য। এছাড়া প্রায় আড়াই হাজার মানুষকে আটক করা হয়েছে।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক বিবৃতিতে আইআরজিসি অভিযোগ করেছে, গত দুই রাতে ‘সন্ত্রাসী গোষ্ঠী’ সামরিক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে এবং বিভিন্ন স্থানে অগ্নিসংযোগ করেছে। তারা আরও জানিয়েছে, ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের অর্জন ও জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষা করা তাদের জন্য অগ্রাধিকারের বিষয় এবং বর্তমান পরিস্থিতি আর চলতে দেওয়া যাবে না।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন করে তেহরানকে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালানো হলে যুক্তরাষ্ট্রও পাল্টা পদক্ষেপ নিতে পারে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন ‘ইরানের সাহসী জনগণের পাশে’ রয়েছে।
বিদেশে নির্বাসিত ইরানের সাবেক শাহর সন্তান রেজা পাহলভি সামাজিক মাধ্যমে বিক্ষোভকারীদের শহরের কেন্দ্র দখলের আহ্বান জানিয়ে পরিবহন, তেল ও জ্বালানি খাতে ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন। তবে ট্রাম্প উল্লেখ করেছেন, পরিস্থিতির বাস্তব চিত্র দেখে তিনি বিরোধী নেতৃত্বের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।
ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য ও জার্মানির নেতারা যৌথ বিবৃতিতে বিক্ষোভকারীদের হত্যার নিন্দা জানিয়ে ইরানকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছেন। যদিও তেহরান জানিয়েছে, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ বৈধ হলেও ‘সহিংস দাঙ্গাবাজদের’ বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।





