ভেনেজুয়েলার ভঙ্গুর জ্বালানি খাত পুনর্গঠন এবং দেশটির তেল উৎপাদনকে রেকর্ড পর্যায়ে উন্নীত করতে মার্কিন তেল জায়ান্ট কোম্পানিগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
শুক্রবার (৯ ডিসেম্বর) হোয়াইট হাউসে এক্সন, শেভরন এবং কনোকোফিলিপসসহ শীর্ষস্থানীয় তেল কোম্পানিগুলোর নির্বাহীদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এই প্রস্তাব উপস্থাপন করেন।
গত ৩ জানুয়ারি মার্কিন অভিযানে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার পর দেশটির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় ট্রাম্পের নজর এখন এই জ্বালানি সম্পদে। তিনি বলেন, মার্কিন কোম্পানিগুলোর জন্য এখন ভেনেজুয়েলার পুরনো ও দুর্বল জ্বালানি অবকাঠামো নতুনভাবে গড়ার এক সুবর্ণ সুযোগ এসেছে, যা দেশের তেল উৎপাদনকে নজিরবিহীন উচ্চতায় নিয়ে যেতে সক্ষম হবে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আরও জানান, ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন নেতৃত্বের সঙ্গে একটি চুক্তি হয়েছে, যার আওতায় ৫০ মিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেল সরবরাহ করা হবে মার্কিন শোধনাগারগুলোতে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এটি আমেরিকার অভ্যন্তরীণ বাজারে জ্বালানির দাম কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তবে এই প্রস্তাবনায় বড় কোম্পানিগুলোর মধ্যে কিছুটা দ্বিধা লক্ষ্য করা গেছে। এক্সন মবিলের সিইও ড্যারেন উডস ভেনেজুয়েলাকে এখনও বিনিয়োগের জন্য অনুপযোগী হিসেবে দেখছেন। এর মূল কারণ হিসেবে তিনি দেশটিতে অতীতের সম্পদ বাজেয়াপ্ত ও চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতাকে উল্লেখ করেছেন।
বর্তমানে ভেনেজুয়েলায় কার্যক্রম চালাচ্ছে একমাত্র বড় মার্কিন কোম্পানি শেভরন, যা কিছুটা আগ্রহ প্রকাশ করেছে। অন্যদিকে কনোকোফিলিপসসহ অন্যান্য বড় কোম্পানি আর্থিক ঝুঁকির কারণে এখনো বড় বিনিয়োগ করতে দ্বিধা দেখাচ্ছে।
তবে ছোট স্বতন্ত্র কোম্পানি এবং প্রাইভেট ইক্যুইটি সংস্থাগুলো ট্রাম্পের উদ্যোগকে সমর্থন জানিয়েছে এবং তারা মার্কিন লাইসেন্সের অধীনে ভেনেজুয়েলার তেল বাজারজাত করতে আগ্রহী। বড় কোম্পানিগুলোর সংশয় দূর করতে ট্রাম্প আশ্বাস দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদের বিনিয়োগের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।
এদিকে জ্বালানি সচিব ক্রিস রাইট উল্লেখ করেছেন, ভেনেজুয়েলার বড় তেল প্রকল্পগুলিতে এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট ব্যাংকের অর্থায়ন বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করবে।
সত্তরের দশকে ভেনেজুয়েলা দিনে ৩.৫ মিলিয়ন ব্যারেল তেল উৎপাদন করলেও কয়েক দশকের অব্যবস্থাপনার কারণে বর্তমানে দেশটির তেল সরবরাহ বৈশ্বিক বাজারের মাত্র এক শতাংশে নেমে এসেছে। বিশ্বে বৃহত্তম তেলের মজুদ থাকা সত্ত্বেও, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য এটি চ্যালেঞ্জের সঙ্গে সঙ্গে বিশাল সুযোগও তৈরি করছে।





