বিশ্ববাজারে ভেনেজুয়েলার অপরিশোধিত তেলের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা ধীরে ধীরে শিথিল করার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র দেশটির নিষেধাজ্ঞাভুক্ত তেল বিক্রি ‘অনির্দিষ্টকালের জন্য’ নিজস্ব নিয়ন্ত্রণে রাখবে। মার্কিন প্রেসিডেন্টের সরকারি বাসভবন হোয়াইট হাউস এ তথ্য জানিয়েছে। এ বিষয়ে খবর প্রকাশ করেছে বিবিসি।
হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তারা জানান, প্রাথমিক পর্যায়ে ৩ থেকে ৫ কোটি ব্যারেল ভেনেজুয়েলার অপরিশোধিত তেল বিক্রির পরিকল্পনা রয়েছে। তবে ওই বিক্রি থেকে যে অর্থ আসবে, তা সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র সরকারের নিয়ন্ত্রণে রাখা হবে। এর মাধ্যমে ভেনেজুয়েলা সরকারের ওপর রাজনৈতিক ও কৌশলগত প্রভাব বজায় রাখার লক্ষ্য রয়েছে বলে জানানো হয়।
মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট এ প্রসঙ্গে বলেন, ভেনেজুয়েলায় যেসব পরিবর্তন অনিবার্যভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে, সেগুলো কার্যকর করতে যুক্তরাষ্ট্রের এই প্রভাব ও নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন। তার মতে, তেল বিক্রির ওপর নজরদারি রাখার মাধ্যমেই ওয়াশিংটন কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তনের চাপ ধরে রাখতে পারবে।
বিশ্লেষকদের হিসাব অনুযায়ী, এই তেল বিক্রি থেকে আনুমানিক ২ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার, অর্থাৎ প্রায় ২ দশমিক ১ বিলিয়ন পাউন্ড আয় হতে পারে। তবে এই অর্থের কতটুকু ভেনেজুয়েলার হাতে পৌঁছাবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেয়নি যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসন।
এদিকে, হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব ক্যারোলিন লেভিট দাবি করেছেন, এ বিষয়ে দুই পক্ষের মধ্যে একটি চুক্তি হয়েছে। তবে ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি পিডিভিএসএ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, তেল বিক্রির বিষয়ে আলোচনা এখনো চলমান রয়েছে এবং বিষয়টি এখন পর্যন্ত দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান কাঠামোর মধ্যেই অগ্রসর হচ্ছে।
পিডিভিএসএ আরও জানায়, এই প্রক্রিয়া আন্তর্জাতিক তেল কোম্পানিগুলোর সঙ্গে আগে থেকে প্রচলিত নিয়ম ও কাঠামোর ভিত্তিতেই পরিচালিত হচ্ছে। তেল বিক্রির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এবং অর্থ ব্যবস্থাপনা নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।





