ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলার পর উত্তর কোরিয়া রোববার (৪ জানুয়ারি) অন্তত দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। একই দিনে প্রতিদ্বন্দ্বী দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে-মিয়ং চীনে রাষ্ট্রীয় সফর শুরু করায় এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়েছে।
উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ গত দুই মাসের মধ্যে তাদের প্রথম পরীক্ষা। পিয়ংইয়ং জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ভেনেজুয়েলায় অভিযান ভেনেজুয়েলার সার্বভৌমত্ব ভয়াবহভাবে লঙ্ঘন করেছে এবং এই ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রের দুর্বৃত্ত ও নিষ্ঠুর চরিত্রের প্রমাণ।
ক্ষেপণাস্ত্রগুলো কোরীয় উপদ্বীপ ও জাপানের মধ্যবর্তী সাগরে গিয়ে পড়ে। সিউলের ফার ইস্টার্ন স্টাডিজ ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক লিম ইউল-চুল বলেন, এটি চীনের প্রতি একটি বার্তা—দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে না তোলা এবং নিরস্ত্রীকরণ ইস্যুতে চীনের অবস্থানের বিরোধিতা। তিনি আরও বলেন, উত্তর কোরিয়া এটিও বোঝাতে চেয়েছে যে তারা পারমাণবিক ও সামরিক শক্তিধর দেশ, যারা আক্রমণাত্মক প্রতিরোধে জবাব দিতে প্রস্তুত।
ইয়োনসেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিজিটিং অধ্যাপক বং ইয়ংশিক মন্তব্য করেন, ভেনেজুয়েলায় ঘটমান ঘটনা দেখার পর সবচেয়ে বেশি ভয় পাওয়ার কথা হল কিম জং উনের।
ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের ঘটনায় দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান উভয়ই তীব্র সমালোচনা করেছে। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কার্যালয় জানায়, তারা জরুরি নিরাপত্তা বৈঠক করেছে এবং জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব লঙ্ঘনকারী ‘উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড’ বন্ধ করার জন্য উত্তর কোরিয়াকে আহ্বান জানিয়েছে।
জাপানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী শিনজিরো কোইজুমি বলেন, “এই উৎক্ষেপণ আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য হুমকি।” তিনি আরও বলেন, জাপানের সরকার উত্তর কোরিয়ার কাছে কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে এবং এ কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ইন্দো-প্যাসিফিক কমান্ড এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এই ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রের সেনাসদস্য, ভূখণ্ড বা মিত্রদের জন্য তাৎক্ষণিক কোনো হুমকি সৃষ্টি করেনি, এবং তারা মিত্র ও অংশীদার দেশগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ পরামর্শ অব্যাহত রাখছে।
সূত্র: রয়টার্স





