কানাডা সরকারের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইরানের বিপ্লবী গার্ডস বাহিনী (আইআরজিসি)কে আন্তর্জাতিক আইন ও নৈতিক নীতির পরিপন্থী হিসেবে চিহ্নিত করে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে ঘোষণা করার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এই পদক্ষেপটি নেওয়া হয়েছে অটোয়ারের ফ্লাইট পিএস৭৫২ দুর্ঘটনার পর কানাডার পক্ষ থেকে প্রতিশোধমূলক কার্যক্রম হিসেবে।
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, রয়্যাল ক্যানাডিয়ান নেভিকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে প্রতিদ্বন্দ্বিতার নীতির ভিত্তিতে। তবে কানাডার এই ঘোষণার ফলে নৌবাহিনী বা এর সদস্যদের জন্য কী প্রভাব বা আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে, সেই বিষয়ে স্পষ্ট কিছু জানানো হয়নি।
গত বছরের ১৯ জুন ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করেছিল কানাডা। তখন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, ইরানের এই বাহিনীর সদস্যরা কানাডায় প্রবেশ করতে পারবে না এবং আইআরজিসি বা সংশ্লিষ্ট কোনো সংগঠনের সঙ্গে কানাডার নাগরিকদের লেনদেনও নিষিদ্ধ হবে। পাশাপাশি কানাডায় তাদের সম্পত্তিও জব্দ করা হবে।
কানাডা অভিযোগ করে, আইআরজিসি আন্তর্জাতিক শৃঙ্খলা অস্থিতিশীল করার চেষ্টা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের সঙ্গে জড়িত। অটোয়ার এই সংস্থাকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করার মূল কারণ ছিল ২০২০ সালের জানুয়ারিতে তেহরান থেকে উড্ডয়নের পর ফ্লাইট পিএস৭৫২ বিমানটি আঘাতপ্রাপ্ত হওয়া। ওই ঘটনায় ১৭৬ জন যাত্রী ও ক্রু নিহত হন, যার মধ্যে ৮৫ জন কানাডীয় নাগরিক বা স্থায়ী বাসিন্দা ছিলেন। ইরান ঘটনার দায় স্বীকার করলেও দাবি করেছে, এটি লক্ষ্যভ্রষ্টভাবে সংঘটিত হয়েছিল।
উল্লেখ্য, ২০১২ সালে কানাডা তেহরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করে ইরানকে ‘বিশ্ব শান্তির জন্য প্রধান হুমকি’ হিসেবে ঘোষণা করে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ২০১৯ সালের এপ্রিল মাসে আইআরজিসিকে বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করে। সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়াও একই ধরনের সিদ্ধান্ত নেয় এবং অভিযোগ করে, সংস্থা দেশটির মাটিতে বিভিন্ন হামলার সঙ্গে জড়িত।





