যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের আগে রাশিয়া ইউক্রেনজুড়ে ব্যাপক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) ভোর থেকে কিয়েভসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় এই হামলায় শত শত ড্রোন এবং বহু ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলেনস্কি। এ খবর ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে।
জেলেনস্কির ভাষ্য অনুযায়ী, এক রাতেই প্রায় ৫০০টি ড্রোন ও ৪০টি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়। হামলায় রাজধানী কিয়েভের বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ ও তাপ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কিয়েভ অঞ্চলে অন্তত একজন নিহত হয়েছেন এবং রাজধানীতে দুই শিশুসহ অন্তত ১৯ জন আহত হয়েছেন।
হামলার পর কিয়েভে প্রায় ১০ ঘণ্টা ধরে বিমান হামলার সতর্কতা জারি ছিল, যা স্থানীয় সময় সকাল ১১টা ২০ মিনিটে তুলে নেওয়া হয়। ধ্বংসস্তূপে এখনও উদ্ধারকাজ চলছে।
জেলেনস্কি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় চলমান শান্তি প্রচেষ্টার জবাব হিসেবেই রাশিয়া এই হামলা চালিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, “ক্রিসমাস ও নববর্ষের সময়কে যদি রাশিয়া ধ্বংস আর আগুনের মধ্যে ঠেলে দেয়, তাহলে এর জবাব দিতে হবে শক্ত ও কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে।” তিনি মস্কোর ওপর আরও চাপ বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
ইউক্রেনের রাষ্ট্রীয় বিদ্যুৎ সংস্থা জানায়, কিয়েভসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের জ্বালানি অবকাঠামোতে আঘাত হানায় জরুরি ভিত্তিতে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করতে হয়েছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, কিয়েভের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এলাকা তাপ সরবরাহহীন হয়ে পড়েছে, যখন তাপমাত্রা ছিল শূন্য ডিগ্রির কাছাকাছি। কিয়েভ ঘিরে থাকা অঞ্চলে প্রায় ৩ লাখ ২০ হাজার পরিবার বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে।
রাশিয়ার হামলার প্রভাব প্রতিবেশী দেশেও পড়েছে। ইউক্রেন সীমান্তঘেঁষা পোল্যান্ডের কয়েকটি বিমানবন্দর সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে এবং যুদ্ধবিমান আকাশে টহল দিয়েছে।
এদিকে যুদ্ধ বন্ধে সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে কূটনৈতিক তৎপরতা চললেও ভূখণ্ড নিয়ন্ত্রণ এখনও সবচেয়ে বড় বাধা হিসেবে রয়েছে।
জেলেনস্কি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগে প্রস্তাবিত ২০ দফা শান্তি কাঠামোর প্রায় ৯০ শতাংশ প্রস্তুত, তবে বিতর্কিত অঞ্চলগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে এখনও ঐকমত্য হয়নি।
রাশিয়া দাবি করছে, ইউক্রেনকে ডোনেৎস্ক অঞ্চলের সম্পূর্ণ এলাকা থেকে সেনা প্রত্যাহার করতে হবে। অন্যদিকে কিয়েভ চায়, বর্তমান যুদ্ধরেখায় লড়াই বন্ধ হোক। জাপোরিঝঝিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়ন্ত্রণ নিয়েও মতবিরোধ রয়ে গেছে।
জেলেনস্কি ইঙ্গিত দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইউক্রেনের অবস্থান সমর্থন না করে, তাহলে তিনি শান্তি পরিকল্পনাটি গণভোটে তোলার বিষয়টি বিবেচনা করতে পারেন—তবে সেক্ষেত্রে রাশিয়াকে অন্তত ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হতে হবে।
রাশিয়ার পক্ষ থেকে সরাসরি হামলা নিয়ে তাৎক্ষণিক কোনও মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে মস্কো জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবগুলো তারা পর্যালোচনা করছে এবং আলোচনায় একটি টার্নিং পয়েন্টে পৌঁছানো সম্ভব হতে পারে।
এই প্রেক্ষাপটে জেলেনস্কি ও ট্রাম্পের আসন্ন বৈঠককে যুদ্ধের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।





