এক-এগারোর সরকারের সময় রাজনৈতিক দমন-পীড়নের শিকার হয়ে চিকিৎসার জন্য লন্ডনে পাড়ি জমান, এরপর বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের ষড়যন্ত্রের কারণে প্রবাস জীবন কাটাতে বাধ্য হন—অবশেষে দীর্ঘ ১৭ বছর পর নিজ দেশে ফিরেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
তার এই স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম গুরুত্ব সহকারে প্রকাশ করেছে।
ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স প্রতিবেদনে শিরোনাম দিয়েছে, ‘নির্বাচনের আগে নির্বাসন থেকে দেশে ফিরেছেন শীর্ষ প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী হিসেবে বিবেচিত বাংলাদেশ নেতা’, যেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রায় ১৭ বছরের নির্বাসনের পর ঢাকায় ফিরেছেন বিএনপির প্রধান নেতা। দল আশা করছে, তার এই প্রত্যাবর্তন সমর্থকদের নতুন উদ্দীপনা যোগাবে। ফেব্রুয়ারি ১২ নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী পদে শীর্ষ প্রার্থী হিসেবে তারেককে দেখা যাচ্ছে।
ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি লিখেছে, ‘নির্বাসনের অবসান ঘটিয়ে ১৭ বছর পর দেশে ফিরলেন খালেদা জিয়ার উত্তরসূরি’, এবং ফরাসি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের দীর্ঘ ক্ষমতাসীন পরিবারের উত্তরসূরি ও প্রধান বিরোধী দলের নেতা দেশে ফিরেছেন। তার মা খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে ধারণা করা হচ্ছে, তিনি দলীয় দায়িত্ব নিজের কাঁধে নেবেন।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, ‘বাংলাদেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে থাকা শীর্ষ নেতা ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে দেশে ফিরেছেন’, যা রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে।
তুর্কি বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সি শিরোনাম দিয়েছে, ‘১৭ বছর নির্বাসিত থাকার পর দেশে ফিরেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পদপ্রার্থী তারেক রহমান’, এবং কাতারভিত্তিক আলজাজিরা নিউজে বলা হয়েছে, ‘১৭ বছরের নির্বাসিত জীবন শেষে বিরোধী দলীয় নেতা তারেক রহমান বাংলাদেশে ফিরেছেন’।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোও তারেক রহমানের দেশে ফেরা নিয়ে বিস্তৃত বিশ্লেষণ করেছে। এনডিটিভি শিরোনাম দিয়েছে, ‘খালেদা জিয়ার পুত্র তারেক রহমান বাংলাদেশে ফিরলেন: নির্বাসনের সময়টি যেমন ছিল’, আর ইন্ডিয়া টুডের শিরোনাম, ‘খালেদা জিয়ার ছেলে তারেক রহমান দেশে ফিরেছেন। কেন এটি ভারতের জন্য ভালো খবর?’
কলকাতা-ভিত্তিক আনন্দবাজারে শিরোনাম ছিল, ‘সপরিবার বাংলাদেশে ফিরলেন তারেক রহমান! ১৭ বছর পর খালেদা-পুত্রের প্রত্যাবর্তন আশা জোগাচ্ছে বিএনপিকে’।
পৃথক প্রতিবেদনে গত ১৭ বছরের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও তারেক রহমানের বিদেশে অবস্থান, ১৮ মাস কারাবাস এবং প্রবাস জীবনের কারণ বিশ্লেষণ করে শিরোনাম দিয়েছে, ‘১৮ মাস কারাবাসের পর কেন, কোন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ছেড়ে লন্ডনে যান তারেক, ফিরে দেখা ১৭ বছর আগের ঘটনাক্রম’।





