বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

নালবাড়ি থেকে দিল্লি: বড়দিন উদযাপনে খ্রিষ্টানদের ওপর আক্রমণ

ছবি: সংগৃহীত

ভারতের আসামের নালবাড়ি জেলায় বড়দিন উদযাপনকে কেন্দ্র করে একটি স্কুলের সাজসজ্জা ভাঙচুর ও আগুন লাগানোর ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এই ঘটনায় অভিযুক্ত হিসেবে কট্টর হিন্দুত্ববাদী সংগঠন বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (ভিএইচপি) এবং বজরং দলের কয়েকজন সদস্যকে দায়ী করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) ভিএইচপি ও বজরং দলের সদস্যরা পানিগাঁও গ্রামের সেন্ট মেরিস স্কুলের প্রাঙ্গণে প্রবেশ করে বড়দিনের সাজসজ্জা ও পোস্টার ছিঁড়ে ফেলে এবং আগুন ধরিয়ে দেয়। ইন্ডিয়া টুডি এনই প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, একদল ব্যক্তি ‘জয় শ্রী রাম’ স্লোগান দিতে দিতে বড়দিনের সাজসজ্জায় আগুন লাগাচ্ছে।

একই দিনে নালবাড়ির আরেকটি ঘটনায় প্রায় ১৫–২০ জন বজরং দলের সদস্য একটি দোকানে রাখা বড়দিনের সাজসজ্জার সামগ্রী পুড়িয়ে দেয় এবং দোকানটি বন্ধ করতে বাধ্য করে। দোকানদার অভিযোগ করেছেন, তিনি জানতেন না যে বড়দিনের সাজসজ্জা বিক্রি করা আইনত নিষিদ্ধ। অভিযুক্তরা পণ্যগুলো নর্দমায় ফেলে আগুন ধরিয়ে দেয়।

সম্প্রতি ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে বড়দিন উদযাপনের সময় খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের ওপর হামলা বা উৎসব ব্যাহত করার একাধিক ঘটনা ঘটেছে। কেরালার পালাক্কাড় জেলার পুদুস্সেরি গ্রামে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ক্যারল গান গাওয়ার সময় শিশুদের ওপর আক্রমণের ঘটনায় রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের এক কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

উত্তরাখণ্ডের হরিদ্বারে গঙ্গার তীরে রাজ্য পর্যটন দপ্তর পরিচালিত একটি হোটেলও বড়দিনের অনুষ্ঠান বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে। স্থানীয় গঙ্গা সভার প্রতিবাদের কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, দিল্লির লাজপত নগরে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, সান্তা ক্লজের টুপি পরা নারী ও শিশুদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। পুলিশ জানিয়েছে, এটি মূলত সামান্য মৌখিক বিরোধ ছিল এবং তা গুরুতর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে রূপ নেয়নি।

এর আগে মঙ্গলবার, ক্যাথলিক বিশপস কনফারেন্স অব ইন্ডিয়া দেশের বিভিন্ন রাজ্যে বড়দিন উদযাপনের আগে খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের ওপর হামলার বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংস্থা জানিয়েছে, এই ধরনের ঘটনা ভারতের সংবিধানে প্রদত্ত ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং নির্ভয়ে উপাসনার অধিকারের পরিপন্থি। বিশেষভাবে, মধ্যপ্রদেশের জবলপুরে একটি গির্জায় বড়দিনের অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া এক দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী নারীকে বিজেপির স্থানীয় নেত্রী অঞ্জু ভার্গভা শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার ঘটনায় তারা ‘মর্মাহত’। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই নেত্রী নারীর বিরুদ্ধে ধর্মান্তরের অভিযোগ তোলেন এবং ঘটনাস্থলে একজন পুলিশ সদস্য উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করুন