বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

তুরস্কে বিমান দুর্ঘটনায় লিবিয়ার সেনাপ্রধান নিহত

তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারার অদূরে একটি বিমান দুর্ঘটনায় লিবিয়ার সেনা প্রধান মোহাম্মেদ আলি আহমেদ আল-হাদ্দাদসহ তার সঙ্গে থাকা চারজন লিবিয়ান সামরিক কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন লিবিয়ার প্রধানমন্ত্রী আবদুল হামিদ ডেবেইবা।

মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) দেওয়া এক বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রী ডেবেইবা ঘটনাটিকে ‘মর্মান্তিক দুর্ঘটনা’ হিসেবে উল্লেখ করেন। আঙ্কারা থেকে ফেরার পথে প্রাইভেট জেটটি বিধ্বস্ত হয় বলে জানায় আলজাজিরা।

বিবৃতিতে আবদুল হামিদ ডেবেইবা বলেন, এই দুর্ঘটনা রাষ্ট্র, সামরিক বাহিনী এবং সাধারণ মানুষের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি। তিনি বলেন, নিহতরা নিষ্ঠা, দায়িত্বশীলতা ও দেশপ্রেমের সঙ্গে লিবিয়ার সেবা করে গেছেন।

দুর্ঘটনায় নিহত অন্য চার কর্মকর্তা হলেন—গ্রাউন্ড ফোর্সেসের চিফ অব স্টাফ আল-ফিতৌরি ঘারিবিল, মিলিটারি ম্যানুফ্যাকচারিং অথরিটির পরিচালক মাহমুদ আল-কাতাউই, আল-হাদ্দাদের উপদেষ্টা মুহাম্মদ আল-আসাউই দিয়াব এবং সামরিক আলোকচিত্রী মুহাম্মদ ওমর আহমেদ মাহজুব।

আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে তুরস্কের এক কর্মকর্তার বরাতে জানানো হয়েছে, ওই বিমানে থাকা তিনজন ক্রু সদস্যও দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন। উড্ডয়নের কিছু সময় পর বিমানটিতে বৈদ্যুতিক ত্রুটি দেখা দিলে জরুরি অবতরণের অনুমতি চাওয়া হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত নিরাপদে অবতরণ সম্ভব হয়নি।

তুরস্কের প্রেসিডেন্সির কমিউনিকেশন ডিরেক্টরেটের প্রধান বুরহানেত্তিন দুরান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, লিবিয়ার সেনা প্রধান মোহাম্মেদ আল-হাদ্দাদ, তার চার সহযোগী ও তিনজন ক্রু নিয়ে প্রাইভেট জেটটি উড্ডয়ন করে। অল্প সময়ের মধ্যেই কারিগরি সমস্যার কারণে তারা এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের কাছে জরুরি অবতরণের অনুমতি চান।

তুরস্কের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলি ইয়েরলিকায়া জানান, আঙ্কারা থেকে লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলির উদ্দেশে রওনা হওয়ার পর বিমানটি প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে কেসিককাভাক গ্রামের কাছে হায়মানা এলাকায় বিধ্বস্ত হয়।

আলজাজিরাকে তুরস্কের এক কর্মকর্তা বলেন, দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে তদন্ত চলছে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে প্রযুক্তিগত ত্রুটির ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বা হামলার কোনো প্রমাণ এখনো মেলেনি।

তুর্কি সামরিক কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন কমান্ডারের সঙ্গে বৈঠকে অংশ নিতে আঙ্কারায় সফরে এসেছিলেন আল-হাদ্দাদ ও তার সফরসঙ্গীরা। তারা যে প্রাইভেট জেটে করে তুরস্কে আসেন, সেটি লিবিয়া সরকারের ভাড়া করা বিমান ছিল।

শেয়ার করুন