বিশ্ব বাজারে স্বর্ণের দাম নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। প্রথমবারের মতো আউন্সপ্রতি ৪,৪০০ ডলার ছাড়িয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, আগামী বছর যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার আরও কমাতে পারে—এই প্রত্যাশায় বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের দিকে ঝুঁকছেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ খবর জানিয়েছে।
সোমবার স্পট বাজারে স্বর্ণের দাম একপর্যায়ে আউন্সপ্রতি ৪,৪২০ ডলারে পৌঁছায়। পরে কিছুটা কমে আসে। চলতি বছরের শুরুতে আউন্সপ্রতি স্বর্ণের দাম ছিল প্রায় ২,৬০০ ডলার।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্কনীতি এবং সুদ কমার প্রত্যাশার কারণে নিরাপদ সম্পদ হিসেবে স্বর্ণ ও অন্যান্য মূল্যবান ধাতুতে বিনিয়োগ বেড়েছে। রুপা ও প্লাটিনামের মতো ধাতুদের দামও এই সময় ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে।
বুলিয়নভল্টের গবেষণা পরিচালক অ্যাড্রিয়ান অ্যাশ বলেন, “চলতি বছর স্বর্ণের দাম ৬৮ শতাংশের বেশি বেড়েছে, যা ১৯৭৯ সালের পর সর্বোচ্চ। সুদের হার, যুদ্ধ পরিস্থিতি ও বাণিজ্য উত্তেজনা ২০২৫ সালে স্বর্ণের দাম বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।”
তিনি আরও বলেন, সুদের হার কমার প্রত্যাশা বিনিয়োগকারীদের বন্ডের মতো নিরাপদে কম রিটার্ন পেতে বাধ্য করে। ফলে তারা স্বর্ণ ও রুপার মতো ধাতুর দিকে ঝুঁকে ঝুঁকি বৈচিত্র্য আনে। যুক্তরাষ্ট্রের ডলারের দুর্বল অবস্থাও বিদেশি ক্রেতাদের জন্য স্বর্ণকে তুলনামূলকভাবে সস্তা করে তুলেছে, যা দাম বাড়াতে সাহায্য করেছে।
অন্য মূল্যবান ধাতুদের ক্ষেত্রেও রেকর্ড বছর যাচ্ছে। সোমবার রুপার দাম আউন্সপ্রতি ৬৯.৪৪ ডলারে পৌঁছেছে, চলতি বছর এখন পর্যন্ত রুপার দাম বেড়েছে ১৩৮ শতাংশ। প্লাটিনামের দামও ১৭ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চে উঠেছে। বিশ্লেষকদের মতে, শক্তিশালী চাহিদা ও সরবরাহ সংকটের কারণে এসব ধাতু স্বর্ণের তুলনায় ভালো করছে। স্বর্ণের বিপরীতে রুপা ও প্লাটিনাম শিল্প উৎপাদনেও ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়, যা চাহিদা আরও বাড়াচ্ছে।





