সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগের প্রধান ক্রিস্টি নোম জানিয়েছেন, দুটি গুরুত্বপূর্ণ কারণে ভেনেজুয়েলার একটি তেলবাহী ট্যাংকার জাহাজ জব্দ করা হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ভেনেজুয়েলা দীর্ঘদিন ধরে জ্বালানি তেলের অবৈধ বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি এসব ট্যাংকার জাহাজ তেল পরিবহনের আড়ালে মাদক পাচারের কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে এমন তথ্যের ভিত্তিতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
এক্সে দেওয়া পোস্টে নোম স্পষ্ট ভাষায় বলেন, নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করে পরিচালিত তেল ব্যবসা এবং এর সঙ্গে যুক্ত মাদক পাচারকারীদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযান অব্যাহত থাকবে। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, অপরাধের সঙ্গে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না এবং যুক্তরাষ্ট্র তাদের শনাক্ত করে থামাবে।
মার্কিন কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনী শনিবার ভোরে আন্তর্জাতিক জলসীমায় যৌথ অভিযানে ওই ট্যাংকার জাহাজটি আটক করে। এটি ভেনেজুয়েলার দ্বিতীয় ট্যাংকার, যা চলতি মাসে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হলো। এর আগে গত ১০ ডিসেম্বর একই ধরনের অভিযানে প্রথম একটি জাহাজ জব্দ করা হয়েছিল।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ভেনেজুয়েলার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান উত্তেজনার পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বিরোধ। ২০১৭ সালে প্রথম মেয়াদে ক্ষমতায় এসে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ হিসেবে চিহ্নিত করেন। ২০২৫ সালে দ্বিতীয় মেয়াদ শুরু হওয়ার পরও মাদুরো সরকারের প্রতি তার কঠোর অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আসেনি।
দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় এসে ট্রাম্প প্রশাসন ভেনেজুয়েলার ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা আরও জোরদার করেছে। বিশেষ করে দেশটির তেলবাহী জাহাজগুলোর বিরুদ্ধে সর্বাত্মক অবরোধ কার্যকর করা হয়েছে। সম্প্রতি ঘোষণা দেওয়া হয়, নিষেধাজ্ঞার তালিকাভুক্ত কোনো ভেনেজুয়েলার ট্যাংকার দেশটির বন্দর ছাড়লে কিংবা ভেনেজুয়েলায় প্রবেশের চেষ্টা করলেই তাৎক্ষণিকভাবে সেটি জব্দ করা হবে।
এই ঘোষণার কয়েক দিনের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের কোস্টগার্ড ভেনেজুয়েলার দ্বিতীয় ট্যাংকারটি আটক করে, যা প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের বাস্তব প্রতিফলন বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
জাহাজটি জব্দের খবর প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত জানতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স মার্কিন কোস্টগার্ড ও প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনের সঙ্গে যোগাযোগ করে। তবে সংশ্লিষ্ট কোনো কর্মকর্তা এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি। বরং কয়েকজন কর্মকর্তা রয়টার্সকে হোয়াইট হাউসের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন।
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আন্না কেলি পরে এক বিবৃতিতে জানান, জব্দ করা ট্যাংকারটি অবৈধভাবে সংগৃহীত তেলে পরিপূর্ণ ছিল এবং সেই তেল বিক্রির অর্থ ভেনেজুয়েলার মাদুরো সরকারের আর্থিক জোগান হিসেবে ব্যবহৃত হতো। একই বক্তব্য তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সেও প্রকাশ করেন।
এদিকে আন্তর্জাতিক জলসীমায় নিজেদের একটি বেসরকারি তেলবাহী জাহাজ আটকানোর ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ভেনেজুয়েলা সরকার। শনিবার প্রকাশিত এক সরকারি বিবৃতিতে তারা ঘটনাটিকে ‘গুরুতর আন্তর্জাতিক জলদস্যুতা’ হিসেবে অভিহিত করে এর কঠোর নিন্দা জানায়।
ভেনেজুয়েলা সরকারের বিবৃতিতে বলা হয়, আন্তর্জাতিক জলসীমায় মার্কিন সামরিক বাহিনীর মাধ্যমে একটি বেসরকারি তেল পরিবহনকারী জাহাজ দখল এবং এর নাবিকদের জোরপূর্বক আটকে রাখার ঘটনা আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের শামিল। তারা এই পদক্ষেপকে অবৈধ ও আগ্রাসী আচরণ বলে উল্লেখ করেছে।





