ইরানের বিচার বিভাগ–সংক্রান্ত বার্তা সংস্থা ‘মিজান’-এর বরাতে জানানো হয়েছে, আঘিল কেশাভার্জ নামের এক ব্যক্তিকে শনিবার ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে।
২৭ বছর বয়সী এই ব্যক্তি পেশায় একজন আর্কিটেকচার ইঞ্জিনিয়ার ছিলেন। চলতি বছরের শুরুতে তাকে ইরানের উত্তর–পূর্বাঞ্চলীয় শহর উরমিয়া থেকে আটক করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, সেনাবাহিনীর একটি টহল দল তাকে সামরিক বাহিনীর সদর দপ্তরের ছবি তোলার সময় হাতে–নাতে ধরে ফেলে। এরপর তাকে গ্রেপ্তার করে নিরাপত্তা বাহিনী।
চলতি বছরের জুনের পর থেকে ইসরায়েলের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে দণ্ড কার্যকরের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। শুধু সেপ্টেম্বর মাসেই অন্তত ১০ জন অভিযুক্তকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে বলে ইরান জানিয়েছিল।
এর আগে দেশটির কর্তৃপক্ষ দাবি করে, তারা এমন একজন গুপ্তচরের শাস্তি কার্যকর করেছে, যাকে ইরানের ইতিহাসে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইসরায়েলি গোয়েন্দাদের একজন হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
গত অক্টোবর মাসে গুপ্তচরবৃত্তি দমনে আরও কঠোর আইন প্রণয়ন করে তেহরান। ওই আইনে উল্লেখ করা হয়, কেউ যদি যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের পক্ষে কাজ করে এবং অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তাহলে তার ক্ষেত্রে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মৃত্যুদণ্ড প্রযোজ্য হবে। এ ধরনের অপরাধে মৃত্যুদণ্ড ছাড়া অন্য কোনো শাস্তির সুযোগ রাখা হয়নি। পাশাপাশি দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তির সম্পত্তি রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করার বিধানও অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
সর্বশেষ যাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে, তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল—তিনি এনক্রিপটেড মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে মোসাদ এবং ইসরায়েলি সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন। বিভিন্ন দায়িত্ব সম্পন্ন করার পর তাকে পারিশ্রমিক হিসেবে ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে অর্থ প্রদান করা হতো বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।





