বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধান ও সরকারি প্রতিনিধিদের কাছ থেকে পাওয়া উপহার সংক্রান্ত দুর্নীতির অভিযোগে দায়ের করা তোশাখানা মামলায় পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ও তার স্ত্রী বুশরা বিবিকে ১৭ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত। একই সঙ্গে উভয়কে পৃথকভাবে ১ কোটি ৬৪ লাখ পাকিস্তানি রুপি করে অর্থদণ্ড প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শনিবার (তারিখ উল্লেখযোগ্য নয়) রাজধানী ইসলামাবাদের জবাবদিহিতা আদালতের বিশেষ বিচারক শাহরুখ আরজুমান্দ এ রায় ঘোষণা করেন। নিরাপত্তাজনিত কারণে আদালতের কার্যক্রম আদিয়ালা কারাগারের ভেতরেই পরিচালিত হয় বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। তোশাখানা সংশ্লিষ্ট দুটি মামলায় এই দণ্ডাদেশ দেওয়া হয়।
ক্ষমতা হারানোর প্রায় দেড় বছর পর, ২০২৩ সালের আগস্টে ইমরান খানকে গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। প্রথমে তাকে পাঞ্জাবের অ্যাটক কারাগারে রাখা হলেও পরে তাকে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে স্থানান্তর করা হয়। সেখানেই বর্তমানে তিনি আটক রয়েছেন।
আদালতের রায়ে বলা হয়, তোশাখানা মামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় কারাদণ্ডের পাশাপাশি অর্থদণ্ডও কার্যকর হবে। এর আগে একই অভিযোগে নিম্ন আদালত ইমরান খান ও বুশরা বিবিকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছিলেন। তবে সেই সাজা পরবর্তীতে ইসলামাবাদ হাইকোর্ট বাতিল করে দেয়।
তোশাখানা মূলত পাকিস্তান সরকারের একটি বিশেষ বিভাগ, যা গত শতকের সত্তরের দশকে প্রতিষ্ঠিত হয়। রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তারা বিদেশ সফর বা রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনের সময় বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধান, কূটনীতিক কিংবা বিশিষ্ট ব্যক্তিদের কাছ থেকে যে উপহার পান, তা এই বিভাগে জমা রাখার নিয়ম রয়েছে।
আইন অনুযায়ী, এসব উপহার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা চাইলে সরকার নির্ধারিত দামে কিনে নিতে পারেন। যদিও এই মূল্য সাধারণত বাজারমূল্যের তুলনায় অনেক কম হয়ে থাকে। উপহার কেনার পর তা বিক্রি করা আইনত নিষিদ্ধ নয়, তবে পাকিস্তানের সমাজে বিষয়টিকে নৈতিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হিসেবে দেখা হয়।
ইমরান খানের বিরুদ্ধে তোশাখানা কেলেঙ্কারির আলোচনা শুরু হয় ২০২১ সালে। পরে ২০২২ সালের আগস্টে পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজ (পিএমএল-এন) দলের নেতা মোহসিন নওয়াজ রানঝা পাকিস্তানের নির্বাচন কমিশনে এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, প্রধানমন্ত্রিত্বকালে ইমরান খান বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান, সরকারি কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে মোট ৫৮টি মূল্যবান উপহার গ্রহণ করেন। এসব উপহারের একটি বড় অংশ তোশাখানায় জমা দেওয়া হয়নি। যেগুলো জমা দেওয়া হয়েছিল, সেগুলোর ক্ষেত্রেও সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অনেক কম দামে কেনা হয় এবং পরবর্তীতে সেগুলো বাইরে বিক্রি করা হয়।
বিক্রি করা উপহারগুলোর মধ্যে বেশ কয়েকটি উচ্চমূল্যের হাতঘড়িও রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, এসব ঘড়ির আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১৪ কোটি ২০ লাখ পাকিস্তানি রুপি।





