পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার রানাঘাট লোকসভা কেন্দ্রের তাহেরপুরে শনিবার (২০ ডিসেম্বর) প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক সভা পরিচালনা করবেন। সেই কারণে সকাল থেকেই সভাস্থল ঘিরে দলীয় নেতা, কর্মী ও সমর্থকরা ধীরে ধীরে জমায়েত হতে শুরু করেন।
তবে প্রধানমন্ত্রীর সভার আগেই পুরো তাহেরপুর অঞ্চল বিভিন্ন গোব্যাক পোস্টারে আচ্ছাদিত ছিল। মোদী সভার পথে যেসব রাস্তায় হাটবেন, সেখানে ও বিরোধী পোস্টার লাগানো হয়েছে। ১২ নম্বর জাতীয় সড়কের পোস্টারে লেখা দেখা গেছে ‘নাগরিকত্ব হরণের সভা’।
বিক্ষোভকারীরা দাবি করেন, এসআইআর প্রক্রিয়ার কারণে ভোটার তালিকা থেকে অনেক পরিবারের নাম বাদ পড়েছে। তারা প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করতে এসব পোস্টার লাগিয়েছেন। যদিও বিজেপি কর্মীরা পোস্টারগুলো সরানোর চেষ্টা করেন।
নদীয়া জেলার বিজেপি কর্মী জয়দেব ভদ্র বলেন, প্রধানমন্ত্রী ভারতের সব স্থানে সফর করবেন। “এখানে গোব্যাক স্লোগান দেওয়ার বিষয়টা ঠিক নয়। এটা পাকিস্তান বা বাংলাদেশ নয়, এটি ভারত। আগামী দিনে এর যথাযথ জবাব দিতে হবে,” তিনি বলেন।
সভাস্থল পৌঁছানোর জন্য বিজেপির কর্মী ও সমর্থকদের বিভিন্ন পথ দিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর রাজ্য সফরের কয়েক ঘণ্টা আগে তৃণমূল কংগ্রেস রাজনৈতিক সুর তীব্র করেছিল। মোদীর জনসভার আগে কেন্দ্রীয় সরকারের নীতিকে কড়া সমালোচনা করেন তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র কুনাল ঘোষ। তিনি বলেন, ভোটের সময় প্রধানমন্ত্রী বাংলায় ঘুরে আসেন, কিন্তু সফরের উদ্দেশ্য মূলত ‘ড্যামেজ কন্ট্রোল’।
কুনাল ঘোষ আরও বলেন, ২০২১ ও ২০২৪ সালের ভোটের আগে বাংলাকে বড় প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু বাস্তবে রাজ্য সেই অর্থ পাইনি। তার দাবি, কেন্দ্র এখনও রাজ্যের প্রায় দুই লাখ কোটি টাকা আটকে রেখেছে। তবে রাজ্যের কোষাগার থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী গরিবদের পাশে দাঁড়াচ্ছেন।
কুনাল মোদীকে নিশানা করে বলেন, “টেলিপ্রম্পটার দেখে বক্তব্য দেবেন, কিন্তু বাংলার মানুষের জন্য কোনো বাস্তব বার্তা নেই। বাংলা বললেই বাংলাদেশে পাঠানোর হুমকি, পরিযায়ী শ্রমিকদের ওপর অত্যাচার—এটাই বিজেপির রাজনীতি।”
তবে শনিবারের সভার দিকে সকলের নজর থাকবে। ধারণা করা হচ্ছে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশ সম্পর্কিত কোনো বার্তা দিতে পারেন।





