ফুটবল তারকা লিওনেল মেসির কলকাতা সফরের সময় সৃষ্ট বিশৃঙ্খলার প্রেক্ষাপটে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের প্রতি তীব্র সমালোচনা জানিয়েছেন আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা।
তিনি অভিযোগ তুলেছেন, রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে এবং এই ঘটনা দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবশালী ভিআইপি সংস্কৃতির ফলাফল। হিমন্ত শর্মা বলেন, “জবাবদিহি শুরু হওয়া উচিত শীর্ষ পর্যায় থেকে।” তিনি আরও বলেন, “রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, যিনি একই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী এবং কলকাতা পুলিশের কমিশনারকে গ্রেফতার করা উচিত।”
অন্য রাজ্যগুলোর বড় জনসমাবেশের সঙ্গে তুলনা করে হিমন্ত শর্মা বলেছেন, “পশ্চিমবঙ্গে ভিড় ব্যবস্থাপনার ব্যর্থতা স্পষ্ট। জুবিন গার্গের মৃত্যুর পর গুয়াহাটির রাস্তায় তিন দিন ধরে প্রায় ১০ লাখ মানুষ ছিল, কিন্তু কোনো দুর্ঘটনা ঘটেনি। এখানে পোস্ট ম্যালোনের অনুষ্ঠান শান্তিপূর্ণভাবে হয়েছে। প্রায় ৫০ হাজার মানুষ গিয়েছিল, কোনো ঘটনা ঘটেনি। মুম্বাইয়ে নারী বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলা হয়েছে, সবকিছু শান্তিপূর্ণ ছিল।”
তিনি আরও মন্তব্য করেছেন, “কিন্তু পশ্চিমবঙ্গ এমন একটি রাজ্য, যেখানে কিছুই পূর্বানুমান করা যায় না। সেখানে ভিআইপি সংস্কৃতি চরম পর্যায়ে রয়েছে।”
হিমন্ত শর্মা বলেন, “মেসি সারা বিশ্বের জন্য একজন আইকন। মমতা ব্যানার্জীকে আত্মসমালোচনা করা উচিত। পশ্চিমবঙ্গে প্রতিদিন নিরীহ মানুষ অত্যাচারের শিকার হচ্ছেন। এটি অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয়।”
মেসির বহুল প্রতীক্ষিত কলকাতা সফর শেষ পর্যন্ত বিশৃঙ্খলায় রূপ নেয়। দর্শকরা অভিযোগ করেছেন, মাঠে ভিআইপি ও রাজনীতিবিদদের উপস্থিতির কারণে তারা বিশ্বকাপজয়ী এই তারকাকে ঠিকমতো দেখতে পারেননি, যার জন্য তারা টিকিট কিনেছিলেন। পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়, যখন মেসি অনুষ্ঠানস্থল ছেড়ে আগেভাগেই চলে যান। এরপর বিক্ষোভ, স্লোগান এবং সল্টলেক স্টেডিয়ামের ভেতরে ভাঙচুর শুরু হয়।
ক্ষুব্ধ দর্শকরা মাঠে প্লাস্টিকের বোতল ও চেয়ার ছুড়ে মারেন, তাঁবু ও একটি গোলপোস্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং কেউ কেউ নিরাপত্তা ভেদ করে মাঠে ঢুকে পড়েন। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হালকা বলপ্রয়োগ করে। পরে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোস জানান, ইভেন্টের আয়োজককে গ্রেফতার করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিরোধী দলগুলো কথিত অব্যবস্থাপনার জন্য তৃণমূল কংগ্রেসকে দায়ী করেছে।
সূত্র: এনডিটিভি





