ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদের রেজিনগরে বাবরি মসজিদের আদলে একটি মসজিদ নির্মাণের উদ্যোগকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তাপ তীব্র হয়ে উঠেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিধানসভা নির্বাচনের আগে ধর্মীয় মেরুকরণের রাজনীতি প্রকাশ্যে এসেছে।
শনিবার (৬ ডিসেম্বর) মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকে মুসলিম সমাজের বিপুল সংখ্যা সমবেত হন। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীরা হাতে ইট নিয়ে উপস্থিত ছিলেন। তৃণমূল-বিরোধী বিধায়ক হুমায়ুন কবীরও সেখানে দলের বাইরে থেকে হুঁশিয়ারি দেন।
তৃণমূল কংগ্রেস এই দিনটি সংহতি দিবস হিসেবে উদযাপন করেছে। কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম বলেছেন, বাবরি মসজিদের আদলে মসজিদ নির্মাণের উদ্যোগে মানুষের আস্থা ও বিশ্বাসে আঘাত এসেছে। অন্যদিকে বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী সমালোচনা করেন তৃণমূলের পদক্ষেপকে, উল্লেখ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হিন্দু ও ভারতীয় সংস্কৃতিবিরোধী মনোভাবের অভিযোগ।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করেন, নির্বাচনের আগে প্রধান দুটি দল ধর্মকে কেন্দ্র করে ভোটারদের নিজেদের দিকে আকৃষ্ট করার চেষ্টা করছে। তৃণমূল ইতিমধ্যে দিঘায় জগন্নাথ মন্দির প্রতিষ্ঠা করেছে এবং নিউ টাউনে দুর্গা মন্দির নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। উত্তরবঙ্গেও বেশ কিছু মন্দির নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী।
বিশ্লেষকরা বলছেন, শেষ পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যবাসী ধর্মীয় মেরুকরণের অংশীদার হবে কিনা, তা বিধানসভার ফলাফলের মাধ্যমে স্পষ্ট হবে।





