রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

পশ্চিম তীর অন্তর্ভুক্ত না হলে গাজার যুদ্ধবিরতি পূর্ণতা পাবে না: কাতারের প্রধানমন্ত্রী

ফাইল ছবি

কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান আল থানি বলেছেন, পশ্চিম তীরকে অন্তর্ভুক্ত না করলে গাজা উপত্যকার যুদ্ধবিরতি চুক্তি কোনোভাবেই সম্পূর্ণ বলে বিবেচিত হবে না।

শনিবার (৬ ডিসেম্বর) দোহা ফোরাম ২০২৫–এ এক আলোচনায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান আল থানি বলেন, কাতার আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেয় এবং এটিকে দেশের জাতীয় নিরাপত্তার অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবেই বিবেচনা করে।

তিনি আরও বলেন, কাতার কখনোই সামরিক শক্তির প্রদর্শনের পথে হাঁটে না। দেশটি কূটনীতি, বিনিয়োগ এবং কৌশলগত অংশীদারিত্বের মাধ্যমেই নিজের প্রভাব জোরদার করে থাকে—এটাই কাতারের স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য।

শেখ মোহাম্মদ বলেন, ক্রমেই বিভক্ত হয়ে পড়া বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে কাতার মধ্যস্থতার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তিতে সক্রিয় ভূমিকা রেখে চলেছে। এজন্য তারা সব পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখে এবং কোনো পক্ষপাতিত্বে জড়িয়ে পড়ে না। কারণ যোগাযোগের পথ বন্ধ হয়ে গেলে কোনো বিরোধের টেকসই সমাধান সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, ২০১৩ সাল থেকে কাতারের যে অগ্রগতি হয়েছে, তার সবই এসেছে সংশ্লিষ্ট প্রতিটি পক্ষের সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততার ফল হিসেবে।

কাতারের প্রধানমন্ত্রী ইসরাইল-ফিলিস্তিন সংকটের মূল কারণ সমাধানের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, এই সংকটের সমাধান শুধু গাজার ধ্বংসস্তূপ পুনর্গঠনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এর সঙ্গে পশ্চিম তীরের পরিস্থিতি এবং ফিলিস্তিনিদের জাতীয় আকাঙ্ক্ষা পূরণের বিষয়টিও অবিচ্ছেদ্যভাবে যুক্ত।

তিনি আরও বলেন, গাজার যুদ্ধবিরতি নিয়ে এখন একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত পার হচ্ছে। মধ্যস্থতাকারীরা বর্তমানে চুক্তির দ্বিতীয় ধাপ বাস্তবায়নে একযোগে কাজ করছেন, যা মূলত আরেকটি অন্তর্বর্তী ধাপ।

শেখ মোহাম্মদ জানান, কাতার, তুরস্ক, মিশর ও যুক্তরাষ্ট্র এই পরবর্তী ধাপের দিকনির্দেশনা নির্ধারণে একসঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরাইলি আগ্রাসনে ৭০ হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন, যাদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু। একই সময়ে আহত হয়েছেন প্রায় ১ লাখ ৭১ হাজার মানুষ। কাতার, তুরস্ক, মিশর ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় গত ১০ অক্টোবর থেকে গাজা উপত্যকায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। তবে চুক্তি উপেক্ষা করে দখলদার ইসরাইল এখনো সেখানে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।

খবর মিডল ইস্ট মনিটরের

শেয়ার করুন