বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলায় বিদ্যুৎ ও পরিবহন খাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

রাশিয়ার ড্রোন ও মিসাইল হামলায় ইউক্রেনের আটটি অঞ্চলের বিদ্যুৎ স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে কিছু এলাকায় ব্ল্যাকআউট সৃষ্টি হয়েছে এবং তিনটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র উৎপাদন কমাতে বাধ্য হয়েছে। শনিবার ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ ও আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) এসব তথ্য জানিয়েছে।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে রাশিয়া তাদের হামলা জ্বালানি অবকাঠামো, বিশেষ করে বিদ্যুৎকেন্দ্র ও রেলওয়ে হাবকে লক্ষ্য করে বাড়িয়েছে। শীতের মরশুম শুরু হওয়ায় এবং যুদ্ধের চার বছর পূর্তির দিকে এগোতে থাকায় হামলার ঘনত্বও বেড়েছে। মার্কিন মধ্যস্থতায় শান্তি আলোচনাও কোনও অগ্রগতি ছাড়াই শেষ হয়েছে।

আইএইএ জানিয়েছে, দেশের তিনটি সক্রিয় পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রাতভর সামরিক কার্যক্রমের কারণে উৎপাদন কমিয়েছে।

ইউক্রেনীয় সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, রাতভর মোট ৬৫৩টি ড্রোন ও ৫১টি মিসাইল ছোড়া হয়, এর মধ্যে ৫৮৫টি ড্রোন ও ৩০টি মিসাইল ধ্বংস করা হয়েছে।

কমিউনিটি ও টেরিটরি ডেভেলপমেন্ট মন্ত্রণালয় জানায়, চেরনিহিভ, জাপোরিজ্জিয়া, লভিভ ও দিনিপ্রোপেট্রোভস্ক অঞ্চলে বিদ্যুৎ ও তাপ উৎপাদন স্থাপনা হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। দক্ষিণাঞ্চলীয় ওডেসা অঞ্চলে ৯ হাজার ৫০০ গ্রাহক তাপ এবং ৩৪ হাজার গ্রাহক পানি সরবরাহবিহীন অবস্থায় রয়েছেন।

ওডেসার বন্দর স্থাপনাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অবকাঠামোর একটি অংশ অচল হয়ে পড়েছে। জেনারেটর থেকে ব্যাকআপ বিদ্যুৎ দিয়ে জরুরি কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। নিরাপত্তা পরিস্থিতি অনুকূল হলেই মেরামত কাজ শুরু হবে।

কিয়েভের কাছাকাছি একটি রেলহাবেও হামলায় ডিপো ও রেলকোচ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফাস্তিভ শহরের এ হামলায় কেউ নিহত হয়নি।

ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা বলেন, রাশিয়া বারবার শান্তি প্রচেষ্টাকে অগ্রাহ্য করছে এবং গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক অবকাঠামোকে লক্ষ্য করছে।

রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, তাদের বাহিনী বৃহৎ পাল্টা হামলা চালিয়েছে। হামলায় কিনঝাল হাইপারসনিক মিসাইলসহ দূরপাল্লার আকাশ-স্থলভিত্তিক উচ্চ-নির্ভুল অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। লক্ষ্য ছিল সামরিক শিল্প স্থাপনা, সহায়ক জ্বালানি অবকাঠামো এবং সামরিক উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত বন্দর স্থাপনা।

শেয়ার করুন