শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

অযোধ্যার রাম মন্দির তৈরি শেষ, মসজিদ নির্মাণে এখনও বিলম্ব

ভারতের উত্তর প্রদেশে অযোধ্যায় রাম মন্দিরের নির্মাণ কার্য সম্পন্ন হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ২৫ নভেম্বর মন্দিরে নিশান উত্তোলনের মাধ্যমে কাজ শেষ হওয়ার ঘোষণা দেন। তবে অন্যদিকে, অযোধ্যায় নতুন মসজিদ নির্মাণের কাজ এখনও শুরু হয়নি।

২০১৯ সালে সুপ্রিম কোর্ট অযোধ্যা বিতর্কে রায় দেন, যেখানে মসজিদের জন্যও উপযুক্ত স্থানের ব্যবস্থা করতে বলা হয়। এর পর ২০২০ সালে ভারত সরকার অযোধ্যা থেকে প্রায় ২০–২৫ কিলোমিটার দূরে ধন্নীপুর গ্রামে পাঁচ একর জমি বরাদ্দ করে। এরপর সুন্নি সেন্ট্রাল ওয়াকফ বোর্ড ‘ইন্দো-ইসলামিক কালচারাল ফাউন্ডেশন’ নামে একটি ট্রাস্ট গঠন করে মসজিদ নির্মাণের পরিকল্পনা শুরু করে।

কিন্তু তৃণমূল পর্যায়ে কোনো কাজ এখনও বাস্তবায়িত হয়নি। বিলম্বের পেছনে জমির দূরত্ব, ট্রাস্টের সদস্যদের মধ্যে মতপার্থক্য, অর্থাভাব এবং প্রাথমিক নকশার বাতিলকরণ মূল কারণ হিসেবে ধরা হয়েছে। ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান জুফর আহমেদ ফারুকি বলেন, “ট্রাস্টের কাছে পর্যাপ্ত তহবিল নেই, তাই কাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি। এছাড়া COVID-19 পরিস্থিতিও বিলম্বের অন্যতম কারণ।”

নকশা সংক্রান্ত জটিলতাও রয়েছে। প্রাথমিক নকশা প্রকাশ করার পর দেশজুড়ে আপত্তি উত্থাপিত হয়। ফারুকি জানান, নতুন নকশা প্রণয়ন করা হয়েছে এবং এটি অযোধ্যা ডেভেলপমেন্ট অথোরিটির কাছে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে জমা দেওয়া হবে। নতুন মসজিদ ১,৪০০ বর্গমিটার এলাকায় তৈরি হবে এবং বাকি কমপ্লেক্সের উন্নয়ন পরে করা হবে।

বিবাদ ও ইতিহাস

অযোধ্যা বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু ছিল ১৬শ শতাব্দীর বাবরি মসজিদ। হিন্দু পক্ষ দাবি করে, সেই স্থানে পূর্বে মন্দির ছিল। ১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর একাংশ জনতা মসজিদ ধ্বংস করে। ২০১০ সালে এলাহাবাদ হাইকোর্ট সুন্নি সেন্ট্রাল ওয়াকফ বোর্ডের দাবি মেনে বিতর্কিত জমির এক-তৃতীয়াংশ তাদের কাছে প্রদান করে, বাকি অংশ হিন্দু পক্ষের কাছে যায়।

সব পক্ষের আপিলের পর সুপ্রিম কোর্ট ২০১৯ সালে রায় দেয় পুরো জমি ‘রামলালা বিরাজমান’ হিসেবে হিন্দু পক্ষকে দেয়া হবে এবং মসজিদ নির্মাণের জন্য পাঁচ একর জমি অযোধ্যায় সুন্নি সেন্ট্রাল ওয়াকফ বোর্ডকে বরাদ্দ করতে হবে। তবে সরকার কর্তৃক বরাদ্দকৃত জমি ধন্নীপুর গ্রামে, যা অযোধ্যা থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে।

আরটিআই অ্যাক্টিভিস্ট ওম প্রকাশ সিং উল্লেখ করেছেন, “আদালত নির্দেশ দিয়েছিলেন, মসজিদ শহরের কেন্দ্র বা কাছাকাছি এলাকায় তৈরি হোক। তবে যে জমি বরাদ্দ করা হয়েছে, তা শহর থেকে অনেক দূরে।” স্থানীয়দের মতে, এত দূরে মসজিদে নামাজ পড়তে সাধারণ মুসলিমরা যাবেন না।

স্থানীয় ও রাজনৈতিক মতামত

ধন্নীপুরের বাসিন্দারা জানান, বরাদ্দকৃত জমি নিয়ে এখন আর তেমন আগ্রহ নেই। মিষ্টির দোকানদার মাজিদ বলেন, “শুরুর দিকে উৎসাহ ছিল, এখন কেউ আগ্রহ দেখায় না। বোর্ডের সদস্যরাও এখানে আসে না।”

রাজনৈতিকভাবে, বিরোধী দলগুলো সরকারকে সমালোচনা করেছে। সমাজবাদী পার্টি অভিযোগ করেছে যে, মসজিদ নির্মাণে শুরু থেকেই বৈষম্যমূলক মনোভাব লক্ষ্য করা গেছে। তারা দাবি করেছে, সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছিলেন মসজিদ শহরের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে তৈরি হোক, কিন্তু সরকার দূরে জমি বরাদ্দ করেছে।
বিজেপি অবশ্য এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে এবং জানিয়েছে, মসজিদ নির্মাণের কাজের দায়িত্ব সরকারের নয়।

শেয়ার করুন