রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

সুদানের স্কুল ও হাসপাতাল লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা, ৪৩ শিশুসহ নিহত ৭৯

ছবি: সংগৃহীত

সুদানের দক্ষিণ কর্দোফান প্রদেশে আধাসামরিক বাহিনী র‍্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ)-এর চালানো ড্রোন হামলায় অন্তত ৭৯ জন প্রাণ হারিয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ৪৩ জন শিশু রয়েছে। এ ছাড়া এই হামলায় আরও ৩৮ জন আহত হয়েছেন।

শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) দেওয়া এক বিবৃতিতে দেশটির কর্তৃপক্ষ এই প্রাণহানির তথ্য নিশ্চিত করেছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা  আনাদোলু।

দক্ষিণ কর্দোফান রাজ্য সরকারের বিবৃতিতে জানানো হয়, বৃহস্পতিবার পশ্চিম সুদানের কালোগি শহরে ভয়াবহ এই হামলার ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে চারজন নারীও রয়েছেন।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, আরএসএফের ড্রোন থেকে মোট চারটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। এর মধ্যে একটি কিন্ডারগার্টেন (শিশু বিদ্যালয়), একটি হাসপাতাল এবং শহরের ঘনবসতিপূর্ণ আবাসিক এলাকায় আঘাত হানে। রাজ্য সরকার এই হামলাকে আরএসএফ-সমর্থিত সুদান পিপলস লিবারেশন মুভমেন্ট-নর্থের দ্বারা সংঘটিত একটি ‘জঘন্য অপরাধ’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।

প্রথমদিকে রাজ্য সরকার জানায়, হামলায় ছয় শিশু ও একজন শিক্ষকসহ মোট আটজন নিহত হয়েছেন এবং আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন। তবে পরে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৭৯ জনে।

দক্ষিণ কর্দোফান রাজ্য সরকার আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছে, এসব সহিংসতা দ্রুত বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। একই সঙ্গে আরএসএফকে একটি ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে ঘোষণা করতে হবে এবং তাদের মিত্রদের এই ‘অমানবিক অপরাধের’ জন্য জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।

হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ। এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানিয়েছে, এই হামলা শিশুদের অধিকার লঙ্ঘনের এক ভয়াবহ দৃষ্টান্ত। ইউনিসেফ জানায়, নিহতদের মধ্যে ৫ থেকে ৭ বছর বয়সি ১০ জনেরও বেশি শিশু রয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের এপ্রিল মাসে সুদান সেনাবাহিনী ও আরএসএফ-এর মধ্যে শুরু হওয়া গৃহযুদ্ধ ইতোমধ্যে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, এই সংঘাতে এখন পর্যন্ত অন্তত ৪০ হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন এবং বাস্তুচ্যুত হয়েছেন প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ মানুষ।

শেয়ার করুন