শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

এক বছরে ১৩ লাখ মানুষ এইচআইভিতে আক্রান্ত

এইডসের লোগো। ছবি: সংগৃহীত

গত বছর, অর্থাৎ ২০২৪ সালে বিশ্বজুড়ে ১৩ লাখ মানুষ নতুন করে এইচআইভিতে আক্রান্ত হয়েছে। বিশ্ব এইডস দিবস (১ ডিসেম্বর) উপলক্ষে সোমবার এই তথ্য জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।

ডব্লিউএইচও-এর বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বৈশ্বিক এইডস প্রতিরোধ বর্তমানে সংকটপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে নতুন সংক্রমণের বড় অংশ ঝুঁকিপূর্ণ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মধ্যে বেশি দেখা যাচ্ছে।

ডব্লিউএইচও মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গেব্রেইয়েসুস বলেন, ‘আমরা বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। আন্তর্জাতিক অর্থায়ন কমে গেছে, প্রতিরোধ কার্যক্রম স্থবির। একইসঙ্গে নতুন সুরক্ষামূলক প্রযুক্তিতে প্রবেশাধিকার বৃদ্ধি এখন সবচেয়ে জরুরি।’

সংস্থা জানায়, এখনও কলঙ্ক, বৈষম্য ও আইনগত বাধার কারণে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী চিকিৎসা ও প্রতিরোধ সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। ডব্লিউএইচওর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে বিশ্বজুড়ে ৪ কোটি ৮ লাখ মানুষ এইচআইভিতে আক্রান্ত ছিলেন এবং ৬ লাখ ৩০ হাজার মানুষ এইচআইভি-সম্পর্কিত কারণে মারা গেছেন।

ডব্লিউএইচও সতর্ক করেছে, আন্তর্জাতিক অর্থায়ন হঠাৎ কমে যাওয়ায় অনেক দেশের প্রতিরোধ, পরীক্ষা ও চিকিৎসা কার্যক্রম গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কিছু দেশে এসব সেবা আংশিকভাবে বা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে।

এইডস ভ্যাকসিন অ্যাডভোকেসি কোয়ালিশন জানিয়েছে, শুধুমাত্র আন্তর্জাতিক দাতাদের অর্থ বন্ধ হওয়ার কারণে ২০২৪ সালে ২৫ লাখ মানুষ প্রি-এক্সপোজার প্রফিল্যাক্সিস (PrEP) সেবা হারাবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, এই ধাক্কা দীর্ঘমেয়াদে ভয়াবহ প্রভাব ফেলতে পারে।

অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যেও ২০২৫ সালে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। ডব্লিউএইচও লেনাকাপাভির নামের নতুন প্রি-এক্সপোজার প্রফিল্যাক্সিস ওষুধ অনুমোদন করেছে, যা বছরে মাত্র দুইবার ইনজেকশন হিসেবে নিতে হয়।

ডেব্লিউএইচও জানিয়েছে, যারা দৈনিক ওষুধ নিতে পারেন না বা স্বাস্থ্যসেবায় যাওয়ার সময় সামাজিক কলঙ্কের মুখে পড়েন, তাদের জন্য এটি ‘রূপান্তরমূলক উদ্ভাবন’। ২০২৫ সালের ৬ অক্টোবর ডব্লিউএইচও ওষুধটি প্রি-কোয়ালিফাই করেছে, ফলে দ্রুত দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে ও জাম্বিয়ায় অনুমোদনের পথ খোলা হয়েছে।

ডব্লিউএইচও-এর এইচআইভি, টিবি, হেপাটাইটিস ও যৌন সংক্রমণ বিভাগের পরিচালক ড. তেরেজা কাসায়েভা বলেন, ‘আমরা এইচআইভি প্রতিরোধ ও চিকিৎসার নতুন যুগে প্রবেশ করছি। তবে জরুরি বিনিয়োগ ছাড়া লাখ লাখ মানুষ এই অগ্রগতি থেকে বঞ্চিত হবে।’

ডব্লিউএইচও সকল সরকারকে আহ্বান জানাচ্ছে—এইচআইভি সেবা প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় একীভূত করতে, স্থানীয় বিনিয়োগ বাড়াতে এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর মানবাধিকার সুরক্ষায় কঠোর পদক্ষেপ নিতে। সংস্থা বলছে, বর্তমান ব্যাঘাত সত্ত্বেও ক্ষতিগ্রস্ত সম্প্রদায়গুলোর দৃঢ় সংকল্প বিশ্বকে এইডস নির্মূলের পথে এগিয়ে রাখছে।

শেয়ার করুন