শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

বাংলাদেশে কারাদণ্ড, যুক্তরাজ্যে যে বিপদে পড়তে পারেন টিউলিপ সিদ্দিকি

পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ক্ষমতার অপব্যবহার ও অনিয়মের অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার বোন শেখ রেহেনা এবং ভাগ্নি ও ব্রিটিশ সংসদ সদস্য টিউলিপ সিদ্দিকের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার রায় ঘোষণা হয়েছে সোমবার (১ ডিসেম্বর)। রায়ে টিউলিপ সিদ্দিককে দুই বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

৪৩ বছর বয়সী টিউলিপের বিরুদ্ধে অভিযোগ— তিনি শেখ হাসিনার প্রভাব ব্যবহার করে তার মা, ভাই ও বোনকে প্লট পেতে সহায়তা করেছেন। পাশাপাশি রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রকল্পে ৪ বিলিয়ন পাউন্ড দুর্নীতির অভিযোগেও তার বিরুদ্ধে যুক্তরাজ্যে তদন্ত শুরু হয়। বিষয়টি প্রথম প্রকাশ্যে আনে ব্রিটিশ ট্যাবলয়েড ডেইলি মেইল। অভিযোগ প্রকাশের পর তিনি সিটি মিনিস্টারের পদ ছাড়তে বাধ্য হন।

ডেইলি মেইলের বিশ্লেষণে বলা হয়, দুর্নীতির অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে এবং দীর্ঘমেয়াদি সাজা হলে টিউলিপের ওপর এমপি পদ ছাড়ার চাপ আরও বাড়তে পারে। রূপপুর প্রকল্পের অভিযোগ ওঠার সময়ও তিনি অনুরূপ চাপের মুখে পড়েছিলেন—তখন মন্ত্রিত্ব হারালেও সংসদ সদস্য পদ ধরে রাখতে সক্ষম হন। বর্তমানে তিনি যুক্তরাজ্যের হ্যাম্পস্টেড অ্যান্ড হাইগেট এলাকার নির্বাচিত এমপি।

রূপপুর তদন্তের মাঝেই যুক্তরাজ্যের একটি ফ্ল্যাটকে কেন্দ্র করে টিউলিপের সম্পদ-ঘোষণা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। তিনি দাবি করেছিলেন, ফ্ল্যাটটি বাবা-মায়ের কাছ থেকে পাওয়া। পরে অভিযোগ ওঠে, এটি নাকি আওয়ামীপন্থি এক নেতার দেওয়া উপহার, যা ঘুষ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

তবে ব্রিটিশ সরকারের তদন্তে বলা হয়— সম্পত্তি সংক্রান্ত তথ্য গোপন বা বিভ্রান্ত করার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি এবং তিনি মন্ত্রীদের আচরণবিধি লঙ্ঘন করেননি।

এদিকে বাংলাদেশে টিউলিপের মামলার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কয়েকজন ব্রিটিশ আইনজীবী। তারা দাবি করেছেন, মামলার তদন্ত ও পরিচালনায় স্বচ্ছতার ঘাটতি রয়েছে। এ বিষয়ে তারা লন্ডনে বাংলাদেশ হাইকমিশনে চিঠিও পাঠিয়েছেন।

শেয়ার করুন