শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ফিলিস্তিনি নার্স তাসনিম আল-হামস মুক্ত

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকার দক্ষিণাঞ্চল থেকে দুই মাস ধরে আটক নার্স তাসনিম আল-হামসকে খান ইউনুসে ছেড়ে দিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী।

তাসনিম আল-হামস অভিযোগ করেছেন, ইসরায়েল-সমর্থিত পপুলার ফোর্সেসের খ্যাত দেশদ্রোহী আবু শাবাব গ্যাং তাকে অপহরণ করে ইসরায়েলি সেনাদের কাছে হস্তান্তর করেছে। ইসরায়েলি সেনারা তার বাবার ওপর চাপ প্রয়োগের হাতিয়ার হিসেবে তাকে ব্যবহার করেছে।

২২ বছর বয়সী তাসনিম স্থানীয় গণমাধ্যমকে বলেন, “আবু শাবাব গ্যাং আমাকে অপহরণ করে ইসরায়েলিদের হাতে দিয়েছে—খান ইউনিসের পূর্ব দিকে। অপহরণের সময় আমি একটি চিকিৎসা কেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করছিলাম।”

আবু শাবাব গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসা, আইএস-সম্পৃক্ত কার্যক্রম, বেসামরিকদের ওপর হামলা, ত্রাণ লুট এবং ইসরায়েলি বাহিনীর সঙ্গে সহযোগিতার অভিযোগ রয়েছে। ফিলিস্তিনের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল তাদের দেশদ্রোহী হিসেবে নিন্দা জানিয়েছে।

তাসনিম জানান, তাকে বিভিন্ন ইসরায়েলি কারাগার ও আটক কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়েছিল। এর মধ্যে আশকেলন কারাগারও রয়েছে, যেখানে তার বাবা ড. মারওয়ান আল-হামস আটক ছিলেন। তিন মাস আগে ইসরায়েলি বিশেষ বাহিনী তাকে অপহরণ করে। তিনি বলেন, তাকে বাবার জিজ্ঞাসাবাদে চাপ সৃষ্টির জন্য ব্যবহার করা হয়েছে।

ডেমন কারাগারে আটক থাকার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে তাসনিম জানান, সেখানে প্রায় ৫০ জন ফিলিস্তিনি নারী বন্দী রয়েছেন, যারা পশ্চিম তীর ও ইসরায়েলের ভেতরের ফিলিস্তিনি সম্প্রদায় থেকে আটক। নারীদের ওপর অকথ্য নির্যাতন চালানো হয়, হিজাব ও জিলবাব খুলতে বাধ্য করা হয়, সেলে গ্যাস স্প্রে করা হয়, খাবার দেওয়া হয় না এবং শারীরিক হামলা করা হয়।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে, তাসনিমের বাবা হামাসের সদস্য এবং ২০১৪ সালে নিহত ইসরায়েলি সেনা হাদার গোল্ডিনের দেহের দাফন স্থানের তথ্য জানতেন।

গাজায় যুদ্ধে ইসরায়েলি বাহিনী হাসপাতাল, ডাক্তার ও নার্সসহ স্বাস্থ্যকর্মীদের লক্ষ্যবস্তু করে আসছে। ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ১,৫০০-এর বেশি স্বাস্থ্যকর্মী নিহত এবং ৩৬০-এর বেশি আটক হয়েছেন।

শেয়ার করুন