শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

শ্রীলঙ্কায় সাইক্লোন ‘ডিটওয়াহ’-র তাণ্ডবে নিহত ১৩২, জরুরি অবস্থা জারি

শ্রীলংকা ঘূর্ণিঝড় ‘ডিটওয়াহ’-র তাণ্ডবে ব্যাপক বন্যার কবলে পড়েছে। টানা ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে দেশজুড়ে বিধ্বস্ত অবস্থা বিরাজ করছে। মৃতের সংখ্যা এখন ১৩২ এবং কমপক্ষে ১৭৬ জন নিখোঁজ রয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিসানায়েকে দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা জারি করেছেন।

ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এক সপ্তাহ ধরে অবিরাম বৃষ্টিতে পুরো দেশে ঘরবাড়ি ভেসে গেছে, সড়ক ও সেতু ধ্বংস হয়ে গেছে এবং অনেক এলাকা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র (ডিএমসি) জানিয়েছে, প্রায় ১৫ হাজার বাড়িঘর বিধ্বস্ত হয়েছে এবং কমপক্ষে ৭৮ হাজার মানুষকে জরুরি আশ্রয়কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়েছে।

বিভিন্ন এলাকায় সেনা, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী যৌথভাবে উদ্ধার কার্যক্রম চালাচ্ছে। অনুরাধাপুরা জেলাতে টানা ২৪ ঘণ্টার অভিযান চালিয়ে এক জার্মান পর্যটকসহ ৬৯ জন বাসযাত্রীকে উদ্ধার করা হয়েছে। হেলিকপ্টার ও নৌকা ব্যবহার করে তাদের নিরাপদ স্থানে নেওয়া হয়েছে।

ডিএমসির মহাপরিচালক সম্পাথ কোটুউইগোদা জানিয়েছেন, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীকে মোতায়েন করা হওয়ায় উদ্ধার কার্যক্রম অনেক দ্রুত হয়েছে। একজন বাসযাত্রী স্থানীয় হাসপাতালে সাংবাদিকদের বলেন, “নৌবাহিনীর সদস্যরা রশি ব্যবহার করে বন্যার পানির মধ্য দিয়ে আমাদের নিরাপদ স্থানে নিয়ে গেছেন। পরে একটি বাড়ির ছাদে ওঠার ব্যবস্থা করা হয়।”

দেশটির মধ্যাঞ্চলের বদুল্লা জেলার অনেক সড়ক ব্যবহার অযোগ্য হয়ে পড়েছে। এতে বহু গ্রামের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এবং ত্রাণ পৌঁছে দিতে সমস্যা হচ্ছে। মাসপান্না গ্রামের এক বাসিন্দা সামান কুমারা বলেন, “আমাদের গ্রামে দু’জন মারা গেছেন। অনেকে একটি মন্দিরে আশ্রয় নিয়েছে। আমরা বাড়িতে অবস্থান করছি। কেউ বের হতে পারছে না, কারণ সমস্ত রাস্তা ধসে বন্ধ হয়ে গেছে। খাবার ও নিরাপদ পানির ঘাটতি রয়েছে।”

প্রশাসন জানিয়েছে, দেশের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এলাকায় বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে পড়েছে, পানির পরিশোধন কেন্দ্র ডুবে গেছে, এবং অনেক এলাকায় ইন্টারনেট সংযোগও বিচ্ছিন্ন।

শনিবার ঘূর্ণিঝড় ‘ডিটওয়াহ’ শ্রীলংকা থেকে সরে গিয়ে ভারতের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। চেন্নাই বিমানবন্দর ঝড়ের কারণে ৫৪টি ফ্লাইট বাতিল করেছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী ৪৮ ঘণ্টায় প্রবল বৃষ্টি ও তীব্র বাতাসের প্রভাব থাকতে পারে।

মধ্যাঞ্চলের ক্যান্ডি জেলায় নতুন করে ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে। রাজধানী কলম্বো থেকে ১১৫ কিলোমিটার পূর্বে প্রধান সড়কের বড় অংশ পানির নিচে তলিয়ে গেছে।

শ্রীলংকা সরকার আন্তর্জাতিক সহায়তার জন্য আবেদন করেছে এবং বিদেশে থাকা দেশবাসীর কাছে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য নগদ অর্থ প্রেরণের অনুরোধ জানিয়েছে।

শেয়ার করুন