শুক্রবার, ২৬ জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

গ্রিন কার্ডধারীদের ওপর কঠোর পুনর্মূল্যায়ন শুরু করতে যাচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন

যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী ১৯টি দেশের নাগরিকদের ইস্যুকৃত গ্রিন কার্ড পুনরায় পরীক্ষা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবা (ইউএসসিআইএস)-এর প্রধান জোসেফ এডলো জানান, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাকে “উদ্বেগজনক তালিকাভুক্ত দেশগুলোর প্রত্যেক বিদেশির প্রতিটি গ্রিন কার্ডের পূর্ণমাত্রার ও কঠোর পুনর্মূল্যায়ন” করার নির্দেশ দিয়েছেন। এ খবর জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।

বিবিসি দেশগুলোর তালিকা জানতে চাইলে সংস্থাটি হোয়াইট হাউজের জুন মাসে প্রকাশিত এক ঘোষণার দিকে ইঙ্গিত করে, যেখানে আফগানিস্তান, ইরান, কিউবা, হাইতি, সোমালিয়া ও ভেনেজুয়েলার নাম উল্লেখ ছিল।

এই ঘোষণাটি আসে ওয়াশিংটন ডিসিতে দুই ন্যাশনাল গার্ডকে লক্ষ্য করে হামলার ঘটনার পর। প্রশাসনের দাবি, সন্দেহভাজন হামলাকারী আফগান নাগরিক রহমানউল্লাহ লাখানওয়াল—যিনি ২০২১ সালে আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের পর বিশেষ সুরক্ষা কর্মসূচির আওতায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, এ ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য গুরুতর জাতীয় নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করেছে।

এডলো বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গ্রিন কার্ড পুনর্মূল্যায়ন সম্পর্কে বক্তব্য দিলেও ন্যাশনাল গার্ড সদস্যদের ওপর হামলার প্রসঙ্গ স্পষ্টভাবে তোলেননি।

তিনি উল্লেখ করেন, “দেশ ও মার্কিন নাগরিকদের সুরক্ষা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। পূর্ববর্তী প্রশাসনের বেপরোয়া পুনর্বাসন নীতির দায় এই দেশকে আর বইতে হবে না।”

তবে ঠিক কীভাবে পুনর্মূল্যায়ন সম্পন্ন হবে, সেই বিষয়ে কোনো অতিরিক্ত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

সংস্থাটি যে জুনে প্রকাশিত ঘোষণার কথা উল্লেখ করেছে, তাতে বলা হয়েছে—“বিদেশি সন্ত্রাসী ও অন্যান্য জাতীয় নিরাপত্তা হুমকি” থেকে রক্ষার স্বার্থে যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশিদের প্রবেশ সীমিত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি যেসব দেশের নাগরিকদের ব্যবসা, শিক্ষা বা পর্যটক ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও দেশে থেকে যাওয়ার হার বেশি, সেসব দেশকেও ওই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

ঘোষণায় আরও বলা হয়, তালেবান—যা যুক্তরাষ্ট্রের তালিকাভুক্ত বিশেষভাবে মনোনীত বৈশ্বিক সন্ত্রাসী গোষ্ঠী—এখন আফগানিস্তান নিয়ন্ত্রণ করছে। দেশটিতে পাসপোর্ট এবং সিভিল ডকুমেন্ট ইস্যুর কোনো নির্ভরযোগ্য কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষ নেই, ফলে যথাযথ স্ক্রিনিং ব্যবস্থা কার্যকর নয়।

যেসব গ্রিন কার্ডধারীরা পুনর্মূল্যায়নের আওতায় আসবেন তাদের মধ্যে রয়েছে লিবিয়া, মিয়ানমার, চাদ ও কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের নাগরিকরাও।

ন্যাশনাল গার্ডের ওপর হামলার ঘটনায় ট্রাম্প কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, “এই হামলা যুক্তরাষ্ট্রের সামনে থাকা সবচেয়ে বড় জাতীয় নিরাপত্তা হুমকিকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়েছে। পূর্ববর্তী প্রশাসন সারা বিশ্ব থেকে দুই কোটির বেশি অজানা, যাচাইবিহীন ব্যক্তিকে দেশে ঢুকতে দিয়েছে—যাদের অনেকের দেশ সম্পর্কে আপনি শুনতেও চাইবেন না। কোনো দেশ এত বড় ঝুঁকি নেবে না।”

এরআগে গত সপ্তাহে ইউএসসিআইএস জানায়, বাইডেন প্রশাসনের সময় গ্রহণ করা সব শরণার্থী আবেদন পুনর্বিবেচনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

বুধবার যুক্তরাষ্ট্র আফগান নাগরিকদের সব অভিবাসন আবেদন প্রক্রিয়া সাময়িকভাবে স্থগিত করে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিরাপত্তা ও যাচাই–বাছাই প্রোটোকল পুনর্বিবেচনার কারণে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

শেয়ার করুন