শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

গিনি-বিসাউয়ে সেনা অভ্যুত্থান, প্রেসিডেন্ট আটক-ক্ষমতা দখল

পশ্চিম আফ্রিকার গিনি-বিসাউতে বুধবার (২৬ নভেম্বর) একদল সামরিক কর্মকর্তা ক্ষমতা দখলের ঘোষণা দিয়েছেন। তারা দাবি করেছেন, দেশের প্রেসিডেন্ট উমারো সিসোকো এমবালোকে গ্রেফতার করা হয়েছে। রোববার (২৩ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের ঠিক আগ মুহূর্তে এই ঘটনা ঘটেছে।

গত ৫০ বছরে পর্তুগালের সাবেক এই উপনিবেশে অন্তত নয়টি অভ্যুত্থান বা অভ্যুত্থানের চেষ্টা রেকর্ড করা হয়েছে।

দেশটির প্রেসিডেন্ট এমবালো আগেও বহুবার অভ্যুত্থান থেকে বেঁচে গেছেন বলে জানিয়েছেন। তবে সমালোচকেরা বলেন, তিনি কখনও কখনও নিজেই সংকট তৈরি করেন, যাতে বিরোধীদের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

বুধবার (২৬ নভেম্বর) দুপুরে রাজধানী বিসাউয়ে গুলির শব্দ শোনা মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে সরকার সংশ্লিষ্ট কয়েকটি সূত্র বিবিসিকে জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট এমবালোকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে ওই কর্মকর্তারা রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে উপস্থিত হয়ে জানান, নির্বাচনী প্রক্রিয়া স্থগিত করা হয়েছে।

রোববার (২৩ নভেম্বর) গিনি-বিসাউতে অনুষ্ঠিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশ হওয়ার কথা ছিল বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর)। নির্বাচনে এমবালো ও তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ফার্নান্দো দিয়াস, দুজনই বিজয়ের দাবি করেছিলেন। জানা গেছে, দিয়াসকে সমর্থন করছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ডোমিঙ্গোস পেরেইরা, যিনি নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে বাদ পড়েছিলেন।

এমন পরিস্থিতির মধ্যেই বুধবার বিকেলে ফ্রান্স ২৪–কে ফোনে এমবালো জানিয়েছেন, তাকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়েছে। এরপর সরকার সংশ্লিষ্ট সূত্র বিবিসিকে জানিয়েছেন, দিয়াস, পেরেইরা এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বোচে কান্দেকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

অভ্যুত্থানকারীরা সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল বিয়াগে না এনটান এবং তার সহকারী জেনারেল মামাদু তোরেকেও হেফাজতে নিয়েছে বলে জানা গেছে।

বুধবার (২৬ নভেম্বর) দুপুরের দিকে বিসাউ শহরে গুলির শব্দ শোনা যায়। তবে কে গুলি চালিয়েছে বা কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেছে কিনা, তা তখন পরিষ্কার ছিল না। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, গুলির শব্দ শুনে শত শত মানুষ পায়ে হেঁটে বা গাড়িতে করে নিরাপদ স্থানের দিকে ছুটে যান।

পরে প্রেসিডেন্ট ভবনের সামরিক পরিবারের প্রধান জেনারেল দেনিস এন’কানহা এক বিবৃতি পাঠ করে ক্ষমতা দখলের ঘোষণা দেন। তিনি জানান, সেনা কর্মকর্তারা ‘উচ্চ সামরিক কমান্ড পুনঃপ্রতিষ্ঠা’ করেছেন এবং জনগণকে শান্ত থাকার আহ্বান জানান।

এদিকে, পর্তুগাল সরকার এক বিবৃতিতে দেশটিতে সাংবিধানিক শৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছে। পর্তুগালের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে সহিংস বা প্রতিষ্ঠানবিরোধী কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকতে হবে।

অন্যদিকে, অভ্যুত্থানকারীরা জানিয়েছেন, একটি ষড়যন্ত্র প্রতিরোধ করতে তারা পদক্ষেপ নিয়েছেন। তাদের দাবি, ‘একজন পরিচিত মাদক সম্রাটের সমর্থন পাওয়া কিছু রাজনীতিবিদ দেশের স্থিতিশীলতা বিঘ্নিত করার চেষ্টা করছিলেন’। অভ্যুত্থানের আগে সেনা সদস্যরা সীমান্ত বন্ধ ঘোষণা করেন এবং রাতে কারফিউ জারি করেন।

সেনেগাল ও গিনির মধ্যে অবস্থিত এই দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকেই অভ্যুত্থানপ্রবণ। ১৯৭৪ সালে পর্তুগালের শাসন থেকে স্বাধীন হওয়ার পর থেকে এখানে সামরিক বাহিনীর প্রভাব শক্তিশালী। দেশটি আন্তর্জাতিকভাবে মাদক পাচারের কেন্দ্র হিসেবেও পরিচিত।

গিনি-বিসাউ বিশ্বের দরিদ্রতম দেশগুলোর মধ্যে একটি, যার জনসংখ্যা ২০ লাখের বেশি। দেশের উপকূলে বহু জনমানবহীন দ্বীপ রয়েছে, যা মাদক পাচারকারীদের জন্য সুবিধাজনক পথ। লাতিন আমেরিকা থেকে ইউরোপগামী কোকেন পরিবহনের প্রধান ট্রানজিট পয়েন্ট হওয়ায় জাতিসংঘ দেশটিকে ‘নার্কো-স্টেট’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।

সূত্র: বিবিসি

শেয়ার করুন