ভারতের মহারাষ্ট্রে আবারও মুসলিম শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে উদ্বেগজনক একটি ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় চরমপন্থি হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠীর সদস্যরা তিন মুসলিম ছাত্রকে জনসমক্ষে অপমানের মুখে ফেলেছে এবং তাদেরকে একটি মূর্তির সামনে গিয়ে মাথা নিচু করে সম্মান প্রদর্শনে বাধ্য করেছে।
এ ঘটনার সূত্রপাত হয় যখন নিরিবিলি একটি শ্রেণীকক্ষে কয়েকজন মুসলিম শিক্ষার্থীর নামাজ পড়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) কাশ্মীর মিডিয়া সার্ভিস ও যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মুসলিম নেটওয়ার্ক টিভির প্রতিবেদনে বিষয়টি উঠে আসে।
কাশ্মীর মিডিয়া সার্ভিস জানায়, ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর বিশ্ব হিন্দু পরিষদ এবং বজরং দলের কয়েকজন কর্মী মহারাষ্ট্রের কল্যাণ এলাকার আইডিয়াল কলেজে প্রবেশ করে। তারা সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের কাছে ক্ষমা চাইতে বলে এবং পরে ছত্রপতি শিবাজী মহারাজের একটি মূর্তির সামনে সম্মান প্রদর্শনে বাধ্য করে। অভিযোগ রয়েছে যে এই সময় উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা পরিস্থিতিতে হস্তক্ষেপ করেননি।
চাক্ষুষ সাক্ষীরা জানান, শিক্ষার্থীদের ঘিরে ধরে চরমপন্থি সদস্যরা ‘জয় শ্রী রাম’ স্লোগান দিতে থাকে এবং চাপ সৃষ্টি করে তাদের নির্দেশ মানতে বাধ্য করে।
স্থানীয় মুসলিম বাসিন্দাদের মতে, বিজেপি শাসিত কয়েকটি রাজ্যে সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে হয়রানির যেসব অভিযোগ বাড়ছে, এই ঘটনাও তারই অংশ। তাদের অভিযোগ—হিন্দুত্ববাদী দলগুলো কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়াই সংখ্যালঘুদের লক্ষ্য করছে এবং প্রশাসন প্রয়োজনীয় সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ হচ্ছে।
আক্রান্ত শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা বলেন, কলেজ কর্তৃপক্ষ ঘটনাটির সময় জনতার চাপে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কারভাবে নেয়নি। বরং অপমানিত হয়েও ছাত্রদের বিরুদ্ধেই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।
অভিভাবকরা কলেজের কাছে ঘটনার তদন্ত, দোষীদের দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করা এবং ক্যাম্পাসে মুসলিম শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।





