শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

শীতের মাঝে গৃহহীন ফিলিস্তিনিদের নতুন দুর্ভোগ: বন্যা এবং ঝড়ে জীবন বিপর্যস্ত

শীতকাল শুরু হয়েছে। এর মধ্যেই তাঁবুতে বন্যার পানি ঢুকতে শুরু করেছে। ফলে ফিলিস্তিনিদের দুর্ভোগ যেন শেষ হচ্ছে না। মঙ্গলবার গাজা উপত্যকায় ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে হাজার হাজার গৃহহীন চরম কষ্টের মুখে পড়েছেন। তীব্র শীতকালীন ঝড়ে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে মানুষরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

২০২৩ সালের অক্টোবরে শুরু হওয়া ইসরায়েলি হামলা এখনও থেমে নেই। যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে গাজার বিভিন্ন স্থানে হামলা অব্যাহত রেখেছে দখলদার বাহিনী। প্রায় দুই বছর ধরে চলা স্থল ও বিমান হামলায় গাজার প্রায় ২০ লাখ মানুষের বড় অংশ তাদের ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছে। এদের মধ্যে অনেকেই এখন তাঁবু এবং অন্যান্য অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে বসবাস করছেন।

অক্টোবরের মাঝামাঝি থেকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও, গাজার অধিকাংশ এলাকা ধ্বংস হয়ে গেছে, যার মধ্যে রয়েছে মৌলিক অবকাঠামো। এর ফলে মানুষের জীবনযাত্রা অত্যন্ত বিপর্যস্ত।

মঙ্গলবার বৃষ্টিপাতের সময় উম্মে আহমেদ আওদাহ তার তাঁবুর বাইরে দাঁড়িয়ে বলেন, “এই দুর্ভোগ, এই বৃষ্টি এবং নিম্নচাপ, এটি কেবল শীতের শুরু এবং আমরা ইতিমধ্যেই প্লাবিত। আমাদের নতুন তাঁবু দেওয়া হয়নি। আমাদের তাঁবু দুই বছরের পুরনো এবং সম্পূর্ণ জীর্ণ।”

ফিলিস্তিনি এনজিও নেটওয়ার্কের প্রধান আমজাদ আল-শাওয়া বলেন, এখনো বাস্তুচ্যুত প্রায় ১৫ লাখ মানুষকে আশ্রয় দেওয়ার জন্য জরুরি ভিত্তিতে কমপক্ষে তিন লাখ তাঁবুর প্রয়োজন।

ফিলিস্তিনি সিভিল ডিফেন্স সার্ভিস জানিয়েছে, গত সপ্তাহে বৃষ্টির পানিতে বাস্তুচ্যুত পরিবারের হাজার হাজার তাঁবু ডুবে গেছে অথবা মুষলধারে বৃষ্টিপাতের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

অবরুদ্ধ এই উপত্যকার কিছু এলাকায় বন্যার পানি বেড়ে গেছে এবং তাঁবুগুলো ভেসে গেছে। অন্যদিকে বন্যার কারণে একটি ফিল্ড হাসপাতালের কার্যক্রমও স্থগিত করতে হয়েছে বলে চিকিৎসক এবং প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।

সোমবার জাতিসংঘ জানিয়েছে, গাজায় শীতকালীন সরবরাহ আনার কাজ চলছে। ত্রাণ গোষ্ঠীগুলোর ওপর ইসরায়েলের নিষেধাজ্ঞার কারণে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র প্রবেশ করতে পারছে না।

হামাস-নেতৃত্বাধীন গাজা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতি চুক্তি অনুযায়ী যে পরিমাণ সহায়তা প্রবেশের কথা ছিল, ইসরায়েল ততটা অনুমতি দিচ্ছে না। সহায়তা সংস্থাগুলো জানিয়েছে, ইসরায়েল অনেক প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র প্রবেশে বাধা দিচ্ছে।

অপরদিকে ইসরায়েল দাবি করছে, তারা যুদ্ধবিরতি চুক্তির অধীনে সমস্ত বাধ্যবাধকতা পালন করছে এবং গাজায় কোনো সহায়তা প্রবেশ বন্ধ হয়নি। তাদের অভিযোগ, সহায়তা সংস্থাগুলো সহায়তা বিতরণে অদক্ষ, অথবা হামাস এসব সহায়তা ‘চুরি’ করছে। তবে হামাস এ ধরনের অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

শেয়ার করুন