শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ভারতে ইসলামবিদ্বেষ ও ঐতিহাসিক ক্ষয় নিয়ে সতর্ক করল পাকিস্তান

ভারতে ইসলামোফোবিয়া ও ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ধ্বংসের ঘটনাগুলো বাড়তে থাকায় বিশ্ব সম্প্রদায়কে সতর্ক করেছে পাকিস্তান। একই সঙ্গে ভারতের অযোধ্যায় ঐতিহাসিক বাবরি মসজিদের স্থানে নির্মিত রাম মন্দিরে পতাকা উত্তোলন নিয়ে দেশটি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এই উদ্বেগ প্রকাশ করে। পাকিস্তান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তাহির হুসেইন আন্দ্রাবি বলেন, ভারতে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের উপর চাপ সৃষ্টির একটি বিস্তৃত প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সংখ্যাগরিষ্ঠতাবাদী হিন্দুত্ববাদী মতাদর্শের প্রভাবে মুসলিম ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য নষ্টের উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচেষ্টা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তিনি জানান, বহু ঐতিহাসিক মসজিদ অপবিত্রকরণ বা ধ্বংসের হুমকির মুখে রয়েছে এবং ভারতীয় মুসলিমরা সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে ক্রমবর্ধমান প্রান্তিকায়নের শিকার হচ্ছেন।

মুখপাত্র আরও বলেন, পাকিস্তান আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ভারতের বাড়তে থাকা ইসলামোফোবিয়া, ঘৃণামূলক বক্তব্য এবং ঘৃণাপ্রসূত হামলার বিষয়ে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছে। জাতিসংঘ ও সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে ইসলামী ঐতিহ্য রক্ষায় এবং সংখ্যালঘুদের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অধিকার সুরক্ষায় গঠনমূলক ভূমিকা নিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, পাকিস্তান ভারতের সরকারকে অনুরোধ জানাচ্ছে যাতে তারা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার বাধ্যবাধকতার আলোকে মুসলিমসহ সকল ধর্মীয় সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে এবং তাদের উপাসনালয়গুলো রক্ষা করে।

বাবরি মসজিদ শতাব্দী প্রাচীন একটি উপাসনালয়। ১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর উগ্রবাদী জনতার দ্বারা এই মসজিদ ধ্বংস করা হয়। ভারতের পরবর্তী বিচারিক প্রক্রিয়ায় দোষীদের খালাস দেওয়া হয়েছে। ভাঙা মসজিদের স্থানে মন্দির নির্মাণের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। পাকিস্তান এটিকে ভারতের রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলোর সংখ্যালঘুদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণের প্রতিফলন হিসেবে মন্তব্য করেছে।

ভারতীয় গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ‘পবিত্র অনুষ্ঠানে’ ওই মন্দিরের শীর্ষে একটি গেরুয়া পতাকা উত্তোলন করেছেন, যা মন্দিরের নির্মাণকাজ আনুষ্ঠানিকভাবে সমাপ্ত হওয়ার সংকেত বহন করে।

শেয়ার করুন