বিশ্বসেরা তরুণ পরমাণু বিজ্ঞানীর তালিকায় ঠাঁই পেয়েছেন বাংলাদেশের সৈয়দ বাহাউদ্দিন আলম। সম্প্রতি আমেরিকান নিউক্লিয়ার সোসাইটির (এএনএস) ‘নিউক্লিয়ার নিউজ ৪০ আন্ডার ৪০’ তালিকায় প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে জায়গা করেছেন তিনি।
আমেরিকান নিউক্লিয়ার সোসাইটি ১৯৫৪ সাল থেকে পারমাণবিক বিজ্ঞানের শান্তিপূর্ণ ব্যবহার এগিয়ে নিতে কাজ করছে। ২০২৪ সাল থেকে সংস্থাটি ৪০ বছরের কম বয়সী শীর্ষ ৪০ জন পরমাণু বিজ্ঞানীকে স্বীকৃতি স্বরূপ ‘নিউক্লিয়ার নিউজ ৪০ আন্ডার ৪০’ তালিকা প্রকাশ করছে।
এ বছর বাংলাদেশের জন্য গৌরব নিয়ে এসেছেন চট্টগ্রামের উদীয়মান বিজ্ঞানী সৈয়দ বাহাউদ্দিন আলম। ৩৮ বছর বয়সী এই তরুণ বিজ্ঞানীকে ‘ডিজিটাল টুইনস’ (ডিজিটাল যমজ প্রযুক্তি), সাইবার নিরাপত্তা ও উন্নত এআই মডেলসের মাধ্যমে নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে অগ্রগামী ভূমিকার জন্য এই সম্মান দেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে তিনি ইলিনয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবানা-চ্যাম্পেইন ক্যাম্পাসে নিউক্লিয়ার, প্লাজমা ও রেডিওলজিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক। নিউক্লিয়ার রিঅ্যাক্টরের নিরাপত্তা ও দক্ষতা বাড়ানোর গবেষণা তার কাজের কেন্দ্রবিন্দু।
তার কাজের মাধ্যমে নিউক্লিয়ার শিল্পে এআই-চালিত সিমুলেশন ও সাইবার হুমকি প্রতিরোধের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হচ্ছে, যা বিশ্বব্যাপী শক্তি খাতে বিপ্লব ঘটাতে পারে। এএনএস জানিয়েছে, ‘বাহাউদ্দিন আলম পারমাণবিক ক্ষেত্রে উদীয়মান তারকা, যার গবেষণা ভবিষ্যতের নিরাপদ ও টেকসই শক্তি সমাধানের চাবিকাঠি।’
চট্টগ্রামের পরিবারে জন্ম নেওয়া বাহাউদ্দিন আলম শিক্ষাজীবন শুরু করেন বাংলাদেশে। পরে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে ইলিনয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি অর্জন করেন। বর্তমানে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘সিলেক্টেড লিডারস’ প্রোগ্রামের অন্তর্ভুক্ত ~১০০ জনের একজন।
ইলিনয় বিশ্ববিদ্যালয়ের এনপিআরই বিভাগের এক পোস্টে বলা হয়েছে, ‘আমরা গর্বিত যে সৈয়দ বাহাউদ্দিন আলমকে এ বছরের নিউক্লিয়ার নিউজ ‘৪০ আন্ডার ৪০’ তালিকায় নির্বাচিত করা হয়েছে।’
একই তালিকায় ইয়াসির আরাফাত নামেও একজন বিজ্ঞানী স্থান পেয়েছেন, যিনি মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গা শরণার্থী হিসেবে বাংলাদেশে বসবাস করতেন। বর্তমানে তিনি আলো অ্যাটমিকসের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও সিটিও হিসেবে কর্মরত।
সূত্র: আমেরিকান নিউক্লিয়ার সোসাইটি, এনপিআরই





