রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে চীনে আবার সক্রিয় হচ্ছে বিটকয়েন খনন

চার বছর নিষিদ্ধ থাকার পর চীনে চুপিসারে আবার সক্রিয় হয়েছে বিটকয়েন খনন। সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ ব্যবহার করে এবং শক্তিসমৃদ্ধ প্রদেশগুলোর ডেটা সেন্টারের চাহিদাকে কাজে লাগিয়ে খনি পরিচালনায় রয়েছে বিভিন্ন ব্যক্তি ও কোম্পানি।

২০২১ সালের আগে চীন ছিল বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রিপ্টো খনির দেশ। তখন আর্থিক স্থিতিশীলতা ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণের কারণে বেইজিং সব ধরনের ক্রিপ্টোকারেন্সি লেনদেন ও মাইনিং নিষিদ্ধ করেছিল।

বিটকয়েন মাইনিং ট্র্যাকিং সাইট ‘হ্যাশরেট ইনডেক্স’ অনুযায়ী, নিষেধাজ্ঞার ফলে বিশ্বজুড়ে চীনের বিটকয়েন মাইনিং বাজারের শেয়ার শূন্যে নেমে আসে। এরপর অক্টোবরের শেষ নাগাদ ১৪ শতাংশ নিয়ে ধীরে ধীরে তৃতীয় স্থানে পৌঁছেছে চীন।

চীনের পুনরায় মাইনিং কার্যক্রম শুধু খনি চালু করেই সীমিত নয়, রিগ বা মাইনিং যন্ত্র উৎপাদক কোম্পানি ‘ক্যানান ইনকর্পোরেটেড’-এর চীনে বিক্রিও বৃদ্ধি পেয়েছে। দেশটিতে মাইনিং বাড়লে বিটকয়েনের চাহিদা ও দামও স্থিতিশীল রাখতে সহায়ক হবে।

সিনজিয়াং প্রদেশের এক খনির মালিক ওয়াং জানিয়েছেন, গত বছরের শেষ দিকে তিনি এই শক্তিসমৃদ্ধ প্রদেশে মাইনিং শুরু করেছিলেন। তিনি বলেন, ‘সিনজিয়াং থেকে অনেক বিদ্যুৎ বাইরে পাঠানো যায় না। ফলে এটি ক্রিপ্টো মাইনিংয়ের জন্য ব্যবহার করা যায়। আমার নতুন খনির প্রকল্পও নির্মাণাধীন।’

২০২১ সালে চীনের ‘ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড রিফর্ম কমিশন’ বিটকয়েন খনির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল। বেইজিংয়ের পদক্ষেপের কারণে স্থানীয় কার্যক্রম বন্ধ হয়ে খনির মালিকরা উত্তর আমেরিকা ও মধ্য এশিয়ার বাজারে চলে গিয়েছিল।

রয়টার্সের মতে, চীনে পুনরায় মাইনিং কার্যক্রম শুরু হওয়ার সময় অক্টোবরে বিটকয়েনের দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছিল। মূলত যুক্তরাষ্ট্রের নীতিগত সহায়তা ও ডলারের ওপর মানুষের আস্থা কমার কারণে বিটকয়েন মাইনিং লাভজনক হয়ে উঠেছিল। তবে বিশ্বজুড়ে ঝুঁকি কমার কারণে পরে দাম অক্টোবরে চূড়ান্ত মূল্যের তুলনায় প্রায় এক-তৃতীয়াংশ কমে গেছে।

শেয়ার করুন