শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

মহাকাশে তীব্র হচ্ছে সামরিক প্রতিযোগিতা

একসময় আমেরিকান জেনারেলরা মহাকাশে যুদ্ধের সম্ভাবনা নিয়ে সরাসরি কথা বলতেন না। তারা স্যাটেলাইট ধ্বংসের পরিবর্তে মহাকাশে আধিপত্য শব্দ ব্যবহার করতেন। কিন্তু এখন রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে ভবিষ্যৎ সম্ভাব্য যুদ্ধে মহাকাশে অস্ত্র ব্যবহার প্রয়োজনীয়তা খোলাখুলি স্বীকার করা হচ্ছে।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আমেরিকাকে রক্ষার জন্য গোল্ডেন ডোম নামে উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ার পরিকল্পনা করেছেন। এটি মূলত ড্রোন, ক্রুজ মিসাইল ও ব্যালিস্টিক মিসাইল শনাক্ত, অনুসরণ ও ধ্বংস করার পুরনো প্রচেষ্টার পুনর্বিন্যাস।

২০২৬ সালে এই পরিকল্পনা আরও স্পষ্ট হতে পারে। প্রশ্ন হলো—নতুন ইন্টারসেপ্টর স্থাপন বা মহাকাশে লেজার-ভিত্তিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তৈরির উদ্যোগ কি নেওয়া হবে? উভয়ই অত্যন্ত ব্যয়বহুল। ট্রাম্প ২০২৬ অর্থবছরে স্পেস ফোর্সে ৪০% বাজেট বৃদ্ধি চেয়েছেন।

স্পেসএক্স মালিক ইলন মাস্কের স্টারশিপ রকেট ২০২৬ সালে মঙ্গলগ্রহে পাঠানোর লক্ষ্য রাখছে। সফল হলে, এটি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি করবে কারণ বিপুল পরিমাণ মালামাল বহন সম্ভব। যুদ্ধ পরিস্থিতিতে স্যাটেলাইট ধ্বংস হলেও স্টারশিপ দ্রুত পুনঃপ্রতিস্থাপনের সুযোগ দেবে। তবে মাস্ক ও ট্রাম্পের সম্পর্ক জটিলতা তৈরি করতে পারে।

২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্র সতর্ক করেছে, রাশিয়া এমন মহাকাশ-ভিত্তিক পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করছে যা নিম্ন-কক্ষপথের বহু স্যাটেলাইট একসঙ্গে ধ্বংস করতে সক্ষম। এটি ১৯৬৭ সালের আউটার স্পেস চুক্তি লঙ্ঘন করবে, যা গণবিধ্বংসী অস্ত্র কক্ষপথে স্থাপন নিষিদ্ধ করে। বিশেষ সন্দেহের মধ্যে রয়েছে কসমস ২৫৫৩ নামের রুশ স্যাটেলাইট, যার মধ্যে পরীক্ষামূলক নকল ওয়ারহেড রয়েছে।

২০২৫ সালে ব্রিটেন ঘোষণা করেছে, তারা কাউন্টার-স্পেস অস্ত্র তৈরি করবে—স্যাটেলাইট ধ্বংস বা বিঘ্ন ঘটানোর জন্য কাইনেটিক ও ইলেকট্রনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে। ফ্রান্সও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথ রঁদেভু ও প্রোক্সিমিটি অপারেশন করেছে, যা যুদ্ধ পরিস্থিতিতে আক্রমণ হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্র ও চীনও একে অপরের স্যাটেলাইটের কাছে ঘনিষ্ঠভাবে কক্ষপথে ঘুরছে। ভবিষ্যতে অরবিটাল ছায়াযুদ্ধ আরও বেড়ে যাবে।

মহাকাশ পর্যবেক্ষণ সাধারণত ব্যয়সাপেক্ষ। তবে এখন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিচ্ছে। ম্যাক্সার এখন মহাকাশে থাকা অন্যান্য স্যাটেলাইটের ছবি তুলছে, যা আগে শুধু গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে দেখা যেত। স্লিংশট অ্যারোস্পেস ১৫০টি টেলিস্কোপের নেটওয়ার্ক দিয়ে স্যাটেলাইট নজরদারি করছে। ২০২৫ সালের এপ্রিলে কসমস ২৫৫৩ হঠাৎ ঘূর্ণায়মান হয়ে সরে গেলে স্লিংশটের সেন্সর সেটি ট্র্যাক করতে সক্ষম হয়েছিল।

মহাকাশে সামরিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা প্রতি বছর তীব্র হচ্ছে। প্রযুক্তির উন্নতির কারণে বিষয়টি আগের তুলনায় আরও স্বচ্ছ ও দৃশ্যমান হয়ে উঠছে।

শেয়ার করুন