শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

যুক্তরাষ্ট্র–সৌদি আরবের পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরের পথে

গত সপ্তাহের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি মন্ত্রী ক্রিস রাইট ঘোষণা করেছেন যে, সৌদি আরবের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদী সিভিল পারমাণবিক শক্তি ও প্রযুক্তি সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর করা হতে পারে। রয়টার্স জানায়, সব ঠিক থাকলে হোয়াইট হাউসে মঙ্গলবার এ চুক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হতে পারে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওয়াশিংটন ও রিয়াদের মধ্যে পারমাণবিক সহযোগিতার বিস্তারিত তথ্য বছরের শেষ নাগাদ প্রকাশ করা হবে।

চুক্তি সম্পর্কিত একটি সূত্র—যার পরিচয় গোপন রাখা হয়েছে—সোমবার জানিয়েছে, সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান যুক্তরাষ্ট্র সফরের সময় এই পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তির কাঠামো স্বাক্ষর করবেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও সব কিছু ঠিক থাকলে একই দিনে চুক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন করতে পারেন।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, মার্কিন আইন অনুযায়ী অন্য কোনো দেশে উল্লেখযোগ্য পারমাণবিক উপকরণ যেমন—রিঅ্যাক্টর জ্বালানি, রিঅ্যাক্টর সরঞ্জাম বা গুরুত্বপূর্ণ উপাদান রপ্তানি করতে হলে ‘১২৩ অ্যাগ্রিমেন্ট’ থাকা বাধ্যতামূলক। সৌদি আরবও এই শর্ত পূরণ করেই চুক্তি স্বাক্ষর করবে বলে জানা গেছে।

‘১২৩ অ্যাগ্রিমেন্ট’ মূলত নিশ্চিত করে যে, পারমাণবিক প্রযুক্তি শুধুমাত্র শান্তিপূর্ণ কাজে ব্যবহৃত হবে এবং পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সম্ভাবনা রোধের জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তবে সৌদি আরবের কয়েকটি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, তারা এখনও কিছু শর্তাবলীর বিষয়ে পুরোপুরি সম্মত নয়। তবে চুক্তি অনুমোদিত হলে যুক্তরাষ্ট্র ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করতে পারে এবং প্রযুক্তি ব্যবহার কেবল শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যেই সীমিত রাখার শর্ত থাকতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি মন্ত্রী ক্রিস রাইট বলেন, “সৌদি আরবের সঙ্গে অবশ্যই একটি ১২৩ পারমাণবিক চুক্তি হবে।” সৌদি আরবের জ্বালানি মন্ত্রীও জানিয়েছেন, তারা পারমাণবিক কার্যক্রম সম্পর্কিত সব শর্ত মেনে চলার জন্য প্রস্তুত।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি আরবের ‘ভিশন ২০৩০’ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দেশটি পারমাণবিক শক্তি ব্যবহার করে তাদের জ্বালানির উৎস বৈচিত্র্য করতে এবং কার্বন নির্গমন কমিয়ে শক্তির ভবিষ্যৎ নিরাপদ করার লক্ষ্য রাখছে। যুক্তরাষ্ট্রও পারমাণবিক প্রযুক্তি ও জ্বালানি ক্ষেত্রে সৌদির সঙ্গে সহযোগিতার মাধ্যমে কৌশলগত ও অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষা করতে চাইছে।

শেয়ার করুন