নিউইয়র্ক সিটির নবনির্বাচিত মেয়র জোহরান মামদানি সম্প্রতি তার ট্রানজিশন টিমে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ট্রেড কমিশনের (এফটিসি) সাবেক চেয়ারম্যান লিনা খানকে সহ-সভাপতির পদে অন্তর্ভুক্ত করেছেন। পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত এবং যুক্তরাজ্যে জন্ম নেওয়া এই ডেমোক্র্যাট, অ্যান্টিট্রাস্ট নীতিতে দৃঢ় অবস্থানের কারণে বড় কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান ও ব্যবসায়ী মহলের সমালোচনার মুখোমুখি হয়েছেন। যদিও তিনি যুক্তরাজ্যে জন্মগ্রহণ করেছেন, ১১ বছর বয়সে পরিবারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন।
লিনা খান সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত তথ্য
লিনা খান ২০২১ সালের ১৫ জুন থেকে ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত এফটিসির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। মাত্র ৩২ বছর বয়সে তিনি এ পদে নিযুক্ত হয়ে ইতিহাসের সর্বকনিষ্ঠ চেয়ারম্যান হয়েছেন, যা সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসনের সময় ঘটেছিল।
ক্যারিয়ারের শুরুতেই তিনি বাজারে করপোরেট একীকরণ ও প্রাধান্য বিষয়ে গবেষণা ও রিপোর্ট তৈরি করেছেন। চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তার লক্ষ্য ছিল কঠোরভাবে অ্যান্টিট্রাস্ট আইন প্রয়োগ করা, নন-কমপিট চুক্তি সীমিত করা, সংবেদনশীল ডেটার সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং স্বাস্থ্যসেবা খাতের অনিয়ম মোকাবিলা করা।
এফটিসিতে যোগদানের আগে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের হাউস জুডিশিয়ারি কমিটির অ্যান্টিট্রাস্ট সাবকমিটিতে কাউন্সেল হিসেবে কাজ করেছেন এবং কলম্বিয়া ল’ স্কুলে সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তার উচ্চশিক্ষা তিনি উইলিয়ামস কলেজ ও ইয়েল ল’ স্কুল থেকে সম্পন্ন করেছেন।
মামদানির ট্রানজিশন টিমে তার ভূমিকা
এক সাক্ষাৎকারে লিনা খান জানিয়েছেন, ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি মামদানি দায়িত্ব নেওয়ার আগে তিনি মেয়রের ক্ষমতা এবং প্রশাসনিক প্রয়োগ সংক্রান্ত বিষয়গুলো পর্যালোচনা করছেন। এছাড়া, তিনি অর্থনৈতিক নীতি, জনবল নিয়োগ এবং শহরকে আরও সাশ্রয়ী করে তোলার নতুন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সহায়তা করছেন।
কেন প্রযুক্তি জায়ান্টদের সমালোচনার মুখোমুখি ছিলেন?
বাইডেন প্রশাসনের সময়ে তিনি অ্যামাজন, মেটা, মাইক্রোসফটসহ বড় প্রযুক্তি কোম্পানির বিরুদ্ধে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মামলা পরিচালনা করেছিলেন। কিছু মামলা সফল হলেও কিছুতে তিনি ব্যর্থ হয়েছিলেন। উদাহরণস্বরূপ, মাইক্রোসফটের অ্যাকটিভিশন-ব্লিজার্ড অধিগ্রহণ আটকাতে পারেননি।
তিনি ক্রোগার ও আলবার্টসন্সের মধ্যে প্রস্তাবিত একীকরণ বাতিল করেছেন এবং নন-কমপিট চুক্তির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন, যা পরবর্তীতে আদালতে স্থগিত হয়। তার কঠোর অবস্থান ওয়াল স্ট্রিট, বড় ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
ইয়েল ল’ স্কুলে অধ্যয়নকালে লেখা তাঁর প্রবন্ধ Amazon’s Antitrust Paradox এ তিনি উল্লেখ করেছেন, অ্যামাজন শিকারমূলক মূল্যনীতির মাধ্যমে বাজারে প্রতিযোগিতা বাধাগ্রস্ত করছে এবং ভোক্তারা ক্ষতিগ্রস্ত না হওয়ায় সরকারের নজরদারি এড়িয়ে যাচ্ছে।
নিউইয়র্কের বড় কর্পোরেটগুলোর জন্য প্রভাব
যদিও সিটি পর্যায়ে লিনা খানের সরাসরি ক্ষমতা নেই, গুগল, মেটা, অ্যামাজনসহ প্রযুক্তি জায়ান্টদের নিউইয়র্কে বড় কার্যক্রম রয়েছে।
টাস্ক স্ট্র্যাটেজির প্রযুক্তি বিভাগের প্রধান এরিক সুফার নিউইয়র্ক পোস্টকে জানিয়েছেন, মামদানি লিনা খানকে দলে নেওয়ায় প্রতিষ্ঠানগুলোকে সতর্ক থাকার বার্তা পৌঁছেছে। প্রথমদিকে কিছুটা অস্থিরতা দেখা দিতে পারে, তবে লিনা খান ও ট্রানজিশন টিমের পরিকল্পনা স্পষ্ট হলে তা কমবে।





