ন্যাশনাল মেডিকেল কমিশন (এনএমসি) চারজন চিকিৎসকের নিবন্ধন বাতিল করেছে, ফলে তারা ভারতের কোনও স্থানে চাকরি করতে বা স্বাধীনভাবে চিকিৎসা প্র্যাকটিস চালাতে পারবেন না। কমিশনের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এই চারজনের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কার্যক্রমে জড়িত থাকার অভিযোগ এবং প্রমাণের ভিত্তিতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
এই চিকিৎসকদের মধ্যে মুজাফফর আহমেদ, আদিল আহমেদ রাথের, মুজাম্মিল শাকিল—তিনজনই কাশ্মিরের বাসিন্দা। শাহীন সাঈদের বাড়ি উত্তরপ্রদেশের রাজধানী লক্ষ্ণৌ। ন্যাশনাল মেডিকেল কমিশন তাদের তথ্য সংগ্রহ করেছে জম্মু-কাশ্মির পুলিশ, জম্মু-কাশ্মীর মেডিক্যাল কাউন্সিল এবং উত্তরপ্রদেশ মেডিক্যাল কাউন্সিলের সহায়তায়। কমিশনের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “ডাক্তারি পেশায় প্রয়োজন সততা ও জনগণের আস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ আচরণ, যা এই চারজনের ক্ষেত্রে দেখা যায়নি।”
গত ১০ নভেম্বর নয়াদিল্লির লাল কিল্লার এলাকায় একটি মেট্রো স্টেশনের কাছে আত্মঘাতী গাড়িবোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে নিহত হন গাড়ির চালকসহ ১৩ জন, আহত হন অন্তত ৩০ জন। বিস্ফোরণের প্রধান সন্দেহভাজন উমর নবী ঘটনাস্থলেই নিহত হন। উমর, যিনি জম্মু-কাশ্মিরের পুলওয়ামা জেলার বাসিন্দা, নিজেও চিকিৎসক ছিলেন। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, উমরই গাড়ির চালক ছিলেন।
বিস্ফোরণের দুই সপ্তাহ আগে অনন্তনাগ জেলায় পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই মহম্মদের পোস্টার লাগানোর সময় আদিল আহমেদ রাথেরকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে হরিয়ানার ফরিদাবাদ থেকে মুজাফফর আহমেদ ও মুজাম্মিল শাকিল এবং শাহারানপুর (উত্তরপ্রদেশ) থেকে শাহীন সাঈদকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের গ্রেপ্তারের দু’দিন পরই দিল্লিতে গাড়িবোমার বিস্ফোরণ ঘটে।
গ্রেপ্তারদের তথ্য অনুসারে ফরিদাবাদ ও শাহারানপুর থেকে মোট ২,৯০০ কেজি বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়। বিস্ফোরক উদ্ধার হওয়ার দুই দিন পরেই দিল্লিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে।





