সোমবারের বিস্ফোরণে ব্যবহৃত বিস্ফোরকের প্রকৃতি সম্পর্কে ফরেন্সিক দল এখনও চূড়ান্ত রিপোর্ট প্রকাশ করেনি। তবে ক্ষয়ক্ষতি এবং হতাহতের পরিমাণের ভিত্তিতে প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, বিস্ফোরণ ঘটানোর ক্ষেত্রে মিলিটারি-গ্রেডের শক্তিশালী বিস্ফোরক ব্যবহৃত হতে পারে।
দিল্লির লালকেল্লা এলাকায় বিস্ফোরক পরীক্ষা ও তদন্ত চলছে। সূত্রের বরাতে জানা যায়, ঘটনাস্থল থেকে দুটি তাজা কার্তুজ এবং দুই ধরনের বিস্ফোরকের নমুনা উদ্ধার করা হয়েছে। ফরেন্সিক পরীক্ষার জন্য সব নমুনা পাঠানো হয়েছে। সূত্রের দাবি, একটি বিস্ফোরক সম্ভবত অ্যামোনিয়াম নাইট্রেটের মতো রাসায়নিক হতে পারে, তবে অন্যটির প্রকৃতি এখনো নির্ধারিত হয়নি। পরীক্ষার পরই বিষয়টি স্পষ্ট হবে।
গোয়েন্দা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, গাড়িতে সম্ভবত পিইটিএন (পেন্টারিথ্রিটল টেট্রানাইট্রেট), সেমটেক্স বা আরডিএক্স-এর মতো শক্তিশালী বিস্ফোরক রাখা ছিল। এই ধরনের বিস্ফোরকের জন্য শার্পনেল বা পেলেটের প্রয়োজন হয় না। তদুপরি, অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট ও ডিটোনেটরের ব্যবহারও সন্দেহ করা হচ্ছে। বিস্ফোরণের সময় কমলা রঙের শিখা দেখা গিয়েছিল, যা সাধারণত অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট থেকে হয়।
এ সব তথ্য এখনও অনুমানের পর্যায়ে রয়েছে এবং ফরেন্সিক পরীক্ষার ফলাফলের অপেক্ষা করতে হবে। ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থল থেকে ৪২টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। তদন্ত সূত্র জানায়, বিস্ফোরণের আগে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়, যার কারণে সন্দেহভাজনরা আতঙ্কিত হয়ে অন্যত্র পালানোর চেষ্টা করছিল।
প্রাথমিক তদন্তে মনে করা হচ্ছে, এটি কোনো আত্মঘাতী হামলা নয়, বরং বিস্ফোরণ ঘটে স্থানান্তর প্রক্রিয়ার সময়। গাড়িতে ব্যবহৃত আইইডি (ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস) কিছুটা অপরিণত ছিল, যার ফলে বিস্ফোরণ সম্পূর্ণ বিধ্বংসী হয়নি।
বিস্ফোরণে ব্যবহৃত সাদা হুন্ডাই আই২০ গাড়িটির গতিবিধি তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন। জানা গেছে, গাড়িটি ২৯ অক্টোবর ফরিদাবাদের ডিলার সোনু থেকে কিনেছিলেন উমর মুহম্মদ। ১০ নভেম্বর পর্যন্ত আল-ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্কিংয়ে ছিল গাড়িটি। সিসিটিভিতে দেখা গিয়েছে, ওই দিন সকালে গাড়িটি বের হয় এবং দিনেই বিস্ফোরণ ঘটে।
সূত্রের দাবি, লালকেল্লার আগে গাড়িটি দিল্লির ব্যস্ত এলাকা কনট প্লেস এবং ময়ূর বিহারে ঘুরেছিল। তাই এখনো পরিষ্কার নয়, বিস্ফোরণটি পরিকল্পিত আত্মঘাতী হামলা ছিল কি না।





